১১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি: বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:২৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০৩৪৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাজধানীর খুচরা বাজারে আরেক দফা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হয়।

এ ছাড়া কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজ ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, আটা-ময়দা ও চিনি বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজরের খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ফখরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলে, আমি দিন আনি, দিন খাই। দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পাই। বাজারের অবস্থার সঙ্গে আমার আয়ের কোনো মিল নেই। আমার হাজিরা বাড়েনি। মজুরি আগে যা ছিল, তাই আছে। তাহলে আমরা সাধারণ মানুষরা কোথায় যাব? সরকারি চাকরিজীবীদের সমস্যা নেই। মজুরি বাড়ানোর কথা বললে মহাজন উত্তর দেয়, ‘দাম কি শুধু তোমাদের জন্য বাড়ছে, আমার জন্যও বাড়ছে! আমার কথা তাহলে শুনবে কে?

হোটেল ব্যবসায়ী মাজেদ আলম বলে, আজ ব্রয়লার ২০০, কক ২৭০/২৮০ টাকা কেজি। আগে যখন ১৫০ টাকায় ব্রয়লার কিনেও হোটেলে পোষাতো না। এখন কীভাবে পোষাবে? লাভ কী থাকবে? কেজিতেই তো ৪০ টাকা নাই। ব্যবসা-বাণিজ্য শেষ। পথে নামতে হবে এমন দশা। হয় আমাকে হোটেল ব্যবসা ছাড়তে হবে, নয়তো সিস্টেমে চলতে হবে।

এ ছাড়া এ সব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্য তালিকায় দেখা গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের এক বিক্রেতা বলে, ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি করা চালের দাম বেশি-এমন অজুহাতে দুই সপ্তাহ আগে মিলাররা সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছে।

এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। তিনি জানান, বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে-যা সাত দিন আগে ৬৬-৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার বিআর ২৮ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৫৪ টাকা। এ ছাড়া মোটা জাতের চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৪ টাকা, যা আগে ছিল ৪৬-৪৮ টাকা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছুটির দিনে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৪২ টাকা। প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৪০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ছিল ৮২ টাকা।

মুদি দোকানদার আসাদ বলে, পরিবহণ খরচ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। বেশি দামে এনে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। যে হারে দাম বাড়ছে, তাতে ক্রেতারা পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ দিন শেষে আমি নিজেও ক্রেতা।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি: বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট: ০৩:২৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাজধানীর খুচরা বাজারে আরেক দফা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হয়।

এ ছাড়া কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজ ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, আটা-ময়দা ও চিনি বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজরের খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ফখরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলে, আমি দিন আনি, দিন খাই। দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পাই। বাজারের অবস্থার সঙ্গে আমার আয়ের কোনো মিল নেই। আমার হাজিরা বাড়েনি। মজুরি আগে যা ছিল, তাই আছে। তাহলে আমরা সাধারণ মানুষরা কোথায় যাব? সরকারি চাকরিজীবীদের সমস্যা নেই। মজুরি বাড়ানোর কথা বললে মহাজন উত্তর দেয়, ‘দাম কি শুধু তোমাদের জন্য বাড়ছে, আমার জন্যও বাড়ছে! আমার কথা তাহলে শুনবে কে?

হোটেল ব্যবসায়ী মাজেদ আলম বলে, আজ ব্রয়লার ২০০, কক ২৭০/২৮০ টাকা কেজি। আগে যখন ১৫০ টাকায় ব্রয়লার কিনেও হোটেলে পোষাতো না। এখন কীভাবে পোষাবে? লাভ কী থাকবে? কেজিতেই তো ৪০ টাকা নাই। ব্যবসা-বাণিজ্য শেষ। পথে নামতে হবে এমন দশা। হয় আমাকে হোটেল ব্যবসা ছাড়তে হবে, নয়তো সিস্টেমে চলতে হবে।

এ ছাড়া এ সব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্য তালিকায় দেখা গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের এক বিক্রেতা বলে, ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি করা চালের দাম বেশি-এমন অজুহাতে দুই সপ্তাহ আগে মিলাররা সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছে।

এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। তিনি জানান, বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে-যা সাত দিন আগে ৬৬-৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার বিআর ২৮ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৫৪ টাকা। এ ছাড়া মোটা জাতের চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৪ টাকা, যা আগে ছিল ৪৬-৪৮ টাকা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছুটির দিনে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৪২ টাকা। প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৪০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ছিল ৮২ টাকা।

মুদি দোকানদার আসাদ বলে, পরিবহণ খরচ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। বেশি দামে এনে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। যে হারে দাম বাড়ছে, তাতে ক্রেতারা পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ দিন শেষে আমি নিজেও ক্রেতা।

ঢাকা/এসএ