১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

পঞ্চগড়ে ভোরের কুয়াশায় শীতের অনুভুতি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১
  • / ১০৪৩২ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলার প্রাকৃতিক নিয়মে পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। তবে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে রাতের ও ভোরের কুয়াশায় শীতের অনুভুতি জানান দিয়েছে কার্তিক মাসের শুরুতেই । কুয়াশার স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার কারনে এই জেলার মানুষ সকালে ও সন্ধ্যায় গরম কাপড় ছাড়া বের হতে পারছেনা। রাতের বেলা কম্বল ও লেপ ছাড়া ঘুমাতে পারছেনা মানুষ। দিনের প্রথম প্রহরে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগার বলছে হিমালয় কাছাকাছি এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগেভাগেই পড়েছে শীতের প্রভাব।

গত ২৪ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা দশদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুঁলিয়ায় । তবে গতকাল মঙ্গলবার তেতুঁলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সামান্য ব্যবধানে শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বুধবার আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউট

গত দুই সপ্তাহজুড়ে সরেজমিনে সকাল বেলা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় শহর অঞ্চলের থেকে গ্রামাঞ্চলের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডার পরিমান বেশি।
এছাড়া নদী তিরবর্তি এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর শীতের প্রস্তুতি নেই।

এদিকে জেলার হাট বাজারগুলোতে লেপ তোশক তৈরির দোকানগুলোর কারিগরদের ব্যাস্ত সময় পার করছেন। জেলা শহরের কদমতলা রোডের তুলা ব্যবসায়ী মনসুর আলম জানান গত বছরের থেকে এবার তুলার দাম বেশি। বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা আগেভাগেই লেপ সেলাই করতে আসছেন। এছাড়াও গার্মেন্টসগুলোতে শীতের কাপড় বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা শহর এবং উপজেলার বাজারগুলোতে কিছু মৌসুমি হকার শীতের কাপড়ের দোকান বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশে দেখা যাচ্ছে। তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান গত ২৪ অক্টোবর থেকে দশদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রির ঘরে। দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমছে। সপ্তাহজুড়ে ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রীতে উঠানামা করছে।

স্থানীয় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তোহিদুল বারী বাবু জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে, তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জ¦লীয় বাস্পগুলো খুব দ্রুত ঘনীভূত হয়ে যাওয়ার কারনে কুয়াশার সৃস্টি হচ্ছে। যেহেতু ভোররাতে সূর্য্য থাকছেনা এজন্য তাপমাত্রাও কম তাই সূর্য্য উঠার সাথে সাথে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। সূর্য্য উঠার পর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারনে জ্বলীয় বাস্পগুলো বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে কুয়াশা কেটে যায়।

আসলে তাপমাত্রা কম বেশি যে মাত্রার হোক না কেন, যেহেতু আমরা হিমালয়ের কাছাকাছি আছি এজন্য হিমালয়ের পরোক্ষ প্রভাব আমাদের পঞ্চগড়ের আবহাওয়ায় পরে যায়। সেই হিমালয়ে বর্তমানে যেহেতু ঠান্ডার পরিবেশ সে কারনেই আমাদের পঞ্চগড়ে আগাম শীত ও ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাপমাত্রার পার্থ্যকের জন্য দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেশি হয়ে গরম এবং রাতের বেলায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে ঠান্ডা বেড়ে যায়। তিনি বলেন মুলত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই তাপমাত্রার বর্তমান তারতম্য এই অঞ্চলে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান পঞ্চগড়ে শীত মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় থেকে ২৬ হাজার কম্বল এই জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলা নির্বাহি অফিসারের মাধ্যমে বিতরন করা হবে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও শীত বস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে শীত বস্ত্র ক্রয়ের জন্য পাঁচ লাখ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ঢাকা/এমটি 

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ে ভোরের কুয়াশায় শীতের অনুভুতি

আপডেট: ০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলার প্রাকৃতিক নিয়মে পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। তবে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে রাতের ও ভোরের কুয়াশায় শীতের অনুভুতি জানান দিয়েছে কার্তিক মাসের শুরুতেই । কুয়াশার স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার কারনে এই জেলার মানুষ সকালে ও সন্ধ্যায় গরম কাপড় ছাড়া বের হতে পারছেনা। রাতের বেলা কম্বল ও লেপ ছাড়া ঘুমাতে পারছেনা মানুষ। দিনের প্রথম প্রহরে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগার বলছে হিমালয় কাছাকাছি এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগেভাগেই পড়েছে শীতের প্রভাব।

গত ২৪ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা দশদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুঁলিয়ায় । তবে গতকাল মঙ্গলবার তেতুঁলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সামান্য ব্যবধানে শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বুধবার আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউট

গত দুই সপ্তাহজুড়ে সরেজমিনে সকাল বেলা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় শহর অঞ্চলের থেকে গ্রামাঞ্চলের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডার পরিমান বেশি।
এছাড়া নদী তিরবর্তি এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর শীতের প্রস্তুতি নেই।

এদিকে জেলার হাট বাজারগুলোতে লেপ তোশক তৈরির দোকানগুলোর কারিগরদের ব্যাস্ত সময় পার করছেন। জেলা শহরের কদমতলা রোডের তুলা ব্যবসায়ী মনসুর আলম জানান গত বছরের থেকে এবার তুলার দাম বেশি। বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা আগেভাগেই লেপ সেলাই করতে আসছেন। এছাড়াও গার্মেন্টসগুলোতে শীতের কাপড় বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা শহর এবং উপজেলার বাজারগুলোতে কিছু মৌসুমি হকার শীতের কাপড়ের দোকান বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশে দেখা যাচ্ছে। তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান গত ২৪ অক্টোবর থেকে দশদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রির ঘরে। দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমছে। সপ্তাহজুড়ে ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রীতে উঠানামা করছে।

স্থানীয় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তোহিদুল বারী বাবু জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে, তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জ¦লীয় বাস্পগুলো খুব দ্রুত ঘনীভূত হয়ে যাওয়ার কারনে কুয়াশার সৃস্টি হচ্ছে। যেহেতু ভোররাতে সূর্য্য থাকছেনা এজন্য তাপমাত্রাও কম তাই সূর্য্য উঠার সাথে সাথে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। সূর্য্য উঠার পর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারনে জ্বলীয় বাস্পগুলো বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে কুয়াশা কেটে যায়।

আসলে তাপমাত্রা কম বেশি যে মাত্রার হোক না কেন, যেহেতু আমরা হিমালয়ের কাছাকাছি আছি এজন্য হিমালয়ের পরোক্ষ প্রভাব আমাদের পঞ্চগড়ের আবহাওয়ায় পরে যায়। সেই হিমালয়ে বর্তমানে যেহেতু ঠান্ডার পরিবেশ সে কারনেই আমাদের পঞ্চগড়ে আগাম শীত ও ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাপমাত্রার পার্থ্যকের জন্য দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেশি হয়ে গরম এবং রাতের বেলায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে ঠান্ডা বেড়ে যায়। তিনি বলেন মুলত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই তাপমাত্রার বর্তমান তারতম্য এই অঞ্চলে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান পঞ্চগড়ে শীত মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় থেকে ২৬ হাজার কম্বল এই জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলা নির্বাহি অফিসারের মাধ্যমে বিতরন করা হবে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও শীত বস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে শীত বস্ত্র ক্রয়ের জন্য পাঁচ লাখ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ঢাকা/এমটি