১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পাঁচ ব্যাংক মার্জারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা চায় ডিএসই

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৯:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ১০২৩২ বার দেখা হয়েছে

দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা মালিকানা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব উদ্বেগ তুলে ধরে ডিএসইর সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

বৈঠকে ডিএসই নেতারা বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তারা উল্লেখ করেন, অতীতের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দায়ী নন।

ডিএসইর পক্ষ থেকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া দেশের শেয়ারবাজারকে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরে ডিএসই।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা T+2 থেকে T+1-এ নামিয়ে আনা, যাতে বাজারে লেনদেনের গতি ও দক্ষতা বাড়ে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআইটিএ) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোতে থাকা ডিএসইর স্থায়ী আমানত ধাপে ধাপে নগদায়নে সহযোগিতাও চেয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।

এ ছাড়া রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বাড়ানো এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন জোরদারে স্টক এক্সচেঞ্জকে সরাসরি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং আইপিও ও বন্ডভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থার প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং জনস্বার্থ রক্ষা ও শেয়ারবাজার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

পাঁচ ব্যাংক মার্জারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা চায় ডিএসই

আপডেট: ০৯:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা মালিকানা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব উদ্বেগ তুলে ধরে ডিএসইর সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

বৈঠকে ডিএসই নেতারা বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তারা উল্লেখ করেন, অতীতের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দায়ী নন।

ডিএসইর পক্ষ থেকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া দেশের শেয়ারবাজারকে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরে ডিএসই।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা T+2 থেকে T+1-এ নামিয়ে আনা, যাতে বাজারে লেনদেনের গতি ও দক্ষতা বাড়ে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআইটিএ) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোতে থাকা ডিএসইর স্থায়ী আমানত ধাপে ধাপে নগদায়নে সহযোগিতাও চেয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।

এ ছাড়া রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বাড়ানো এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন জোরদারে স্টক এক্সচেঞ্জকে সরাসরি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং আইপিও ও বন্ডভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থার প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং জনস্বার্থ রক্ষা ও শেয়ারবাজার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকা/এসএইচ