১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রতারণার মামলায় আমান গ্রুপের তিন পরিচালক কারাগারে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১১:২২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২
  • / ১০৪৮৭ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক তৌফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঋণ প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় সোমবার (২৩ মে) রাজশাহীর অতিরিক্ত সিএমএম আদালতে তিন ভাই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে রাজশাহীর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিম তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মামলার বাদী যমুনা ব্যাংক রাজশাহীর শাখার আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবু বাকার। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণ প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিনে ছিলেন তারা।

একটি শিল্প গ্রুপের শীর্ষ তিন মালিক কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় রাজশাহীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, আমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কয়েক বছর আগে রাজশাহীতে থাকা গ্রুপের মালিকানাধীন জমি বন্ধক রেখে যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখা থেকে ৮৬ কোটি টাকা চলতি ঋণ গ্রহণ করে।

তবে ঋণ মঞ্জুর ও গ্রহণের পর আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও অপর দুই পরিচালক শফিকুল ইসলাম এবং তৌফিকুল ইসলাম গোপনে ব্যাংককে দেওয়া বন্ধকী সম্পত্তি পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানায় স্থানান্তর করেন। ব্যাংক ঋণ বন্ধক সম্পত্তির খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে তাদের দেওয়া সম্পত্তি অন্য মালিকানায় হস্তান্তর ও খারিজ হয়ে গেছে। এই জমি ব্যাংকের মালিকানায় আর নেই।

এদিকে এই প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে ২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান শাহ বাদী হয়ে আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, তার অপর দুই ভাই পরিচালক শফিকুল ইসলাম এবং তৌফিকুল ইসলামকে আসামি করে রাজশাহীর সিএএম আদালতে একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলা নং-২৮/২০১৯ (শাহমখদুম)। ধারা ৪০২/৪০৬ ও বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের-৮২ ধারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরার ইশাখাঁ সড়কে আমান গ্রুপের করপোরেট সদর দপ্তর। তবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মুন্সীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জে তাদের তিনটি বৃহৎ সিমেন্ট প্ল্যাট রয়েছে যা আমান সিমেন্ট নামে খ্যাত।

এছাড়া ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে একাধিক টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি শিল্প কারখানা রয়েছে আমান গ্রুপের। রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়ায় রয়েছে বিকল্প বাণিজ্যিক অফিস।

জানা যায়, আশির দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা রাজশাহী শহরে এসে রড-সিমেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে একটি বিশাল শিল্প গ্রুপ গঠন করেন। তবে নানা কারণে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে দেশের শীর্ষ এই গ্রুপটি।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

প্রতারণার মামলায় আমান গ্রুপের তিন পরিচালক কারাগারে

আপডেট: ১১:২২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক তৌফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঋণ প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় সোমবার (২৩ মে) রাজশাহীর অতিরিক্ত সিএমএম আদালতে তিন ভাই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে রাজশাহীর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিম তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মামলার বাদী যমুনা ব্যাংক রাজশাহীর শাখার আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবু বাকার। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণ প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিনে ছিলেন তারা।

একটি শিল্প গ্রুপের শীর্ষ তিন মালিক কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় রাজশাহীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, আমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কয়েক বছর আগে রাজশাহীতে থাকা গ্রুপের মালিকানাধীন জমি বন্ধক রেখে যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখা থেকে ৮৬ কোটি টাকা চলতি ঋণ গ্রহণ করে।

তবে ঋণ মঞ্জুর ও গ্রহণের পর আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও অপর দুই পরিচালক শফিকুল ইসলাম এবং তৌফিকুল ইসলাম গোপনে ব্যাংককে দেওয়া বন্ধকী সম্পত্তি পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানায় স্থানান্তর করেন। ব্যাংক ঋণ বন্ধক সম্পত্তির খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে তাদের দেওয়া সম্পত্তি অন্য মালিকানায় হস্তান্তর ও খারিজ হয়ে গেছে। এই জমি ব্যাংকের মালিকানায় আর নেই।

এদিকে এই প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে ২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান শাহ বাদী হয়ে আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, তার অপর দুই ভাই পরিচালক শফিকুল ইসলাম এবং তৌফিকুল ইসলামকে আসামি করে রাজশাহীর সিএএম আদালতে একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলা নং-২৮/২০১৯ (শাহমখদুম)। ধারা ৪০২/৪০৬ ও বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের-৮২ ধারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরার ইশাখাঁ সড়কে আমান গ্রুপের করপোরেট সদর দপ্তর। তবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মুন্সীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জে তাদের তিনটি বৃহৎ সিমেন্ট প্ল্যাট রয়েছে যা আমান সিমেন্ট নামে খ্যাত।

এছাড়া ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে একাধিক টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি শিল্প কারখানা রয়েছে আমান গ্রুপের। রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়ায় রয়েছে বিকল্প বাণিজ্যিক অফিস।

জানা যায়, আশির দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা রাজশাহী শহরে এসে রড-সিমেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে একটি বিশাল শিল্প গ্রুপ গঠন করেন। তবে নানা কারণে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে দেশের শীর্ষ এই গ্রুপটি।

ঢাকা/এসএ