০১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

‘বাজেট জনকল্যাণমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তাবিত হলেও বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা রয়েছে’

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৪ বার দেখা হয়েছে

বাজেট জনকল্যাণমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তাবিত হলেও বাস্তবায়নে অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক আলাপ আলোচকরা।শনিবার (২০ জুন) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (সেন্টার ফর এডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্স-কার্স) এর কনফারেন্স কক্ষে ‘নাগরিক আলাপ’ আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর “বাজেট প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণ: একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচকরা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে এ মত দেন।

আলোচনায় আইসিবির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, অনলাইন পত্রিকা অর্থসূচক এর সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকে অংশ নেন।স্পন্সর্ড কন্টেন্ট

এছাড়াও তারা বলেন- প্রস্তাবিত বাজেট আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কৃষি খাতে বরাদ্দ ৮ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ-এ নেমে আসা, সুদ পরিশোধে বাজেটের সিংহভাগ ব্যয়, পরিচালনা খরচে প্রতি ১০০ টাকার ৭২ টাকা চলে যাওয়া এবং বিদেশি ঋণনির্ভরতা এই সমস্যাগুলো বারবার সামনে আসে। একই সঙ্গে আলোচনায় পুঁজিবাজারবান্ধব কিছু পদক্ষেপ, ফার্মার্স কার্ড এবং ডিজিটাইজেশনে মনোযোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।আলোচকরা বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যাও চিহ্নিত করেন — প্রতিরক্ষা বাজেট বৈশ্বিক গড়ের নিচে থাকা, এনবিআর-এ দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেট, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ব্যয়ে অক্ষমতা এবং বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ না পাওয়া।

সামগ্রিকভাবে বক্তারা একমত হন যে, নিছক বাজেট সংখ্যার পরিবর্তনে নয়, বরং উন্নয়নের পেছনে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী লক্ষ্য নির্ধারণেই আসল পরিবর্তন আনতে হবে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন, বেসরকারি খাতের সক্রিয় ভূমিকা এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ভরতা থেকে মুক্তি — এই তিনটি বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

‘বাজেট জনকল্যাণমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তাবিত হলেও বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা রয়েছে’

আপডেট: ১২:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বাজেট জনকল্যাণমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তাবিত হলেও বাস্তবায়নে অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক আলাপ আলোচকরা।শনিবার (২০ জুন) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (সেন্টার ফর এডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্স-কার্স) এর কনফারেন্স কক্ষে ‘নাগরিক আলাপ’ আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর “বাজেট প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণ: একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচকরা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে এ মত দেন।

আলোচনায় আইসিবির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, অনলাইন পত্রিকা অর্থসূচক এর সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকে অংশ নেন।স্পন্সর্ড কন্টেন্ট

এছাড়াও তারা বলেন- প্রস্তাবিত বাজেট আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কৃষি খাতে বরাদ্দ ৮ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ-এ নেমে আসা, সুদ পরিশোধে বাজেটের সিংহভাগ ব্যয়, পরিচালনা খরচে প্রতি ১০০ টাকার ৭২ টাকা চলে যাওয়া এবং বিদেশি ঋণনির্ভরতা এই সমস্যাগুলো বারবার সামনে আসে। একই সঙ্গে আলোচনায় পুঁজিবাজারবান্ধব কিছু পদক্ষেপ, ফার্মার্স কার্ড এবং ডিজিটাইজেশনে মনোযোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।আলোচকরা বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যাও চিহ্নিত করেন — প্রতিরক্ষা বাজেট বৈশ্বিক গড়ের নিচে থাকা, এনবিআর-এ দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেট, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ব্যয়ে অক্ষমতা এবং বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ না পাওয়া।

সামগ্রিকভাবে বক্তারা একমত হন যে, নিছক বাজেট সংখ্যার পরিবর্তনে নয়, বরং উন্নয়নের পেছনে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী লক্ষ্য নির্ধারণেই আসল পরিবর্তন আনতে হবে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন, বেসরকারি খাতের সক্রিয় ভূমিকা এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ভরতা থেকে মুক্তি — এই তিনটি বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ঢাকা/আরএইচ