০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৮ বার দেখা হয়েছে

দুবাইয়ে গ্রেফতার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কূটনীতি বিশ্লেষক বলছেন, রাজনৈতিক মামলা না থাকায় তাকে ফেরানো কঠিন হবে না। আর অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বেনজীরকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা গেলে কমে আসবে দুর্নীতির প্রবণতা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঙ্কার দেয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ নিজেই জড়িয়ে পড়েন সীমানহীন দুর্নীতিতে। এক দশকেরও বেশি সময় ছিলেন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, আবার কখনও নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় বারবার ছিলেন আলোচনায়।একাধিক মামলার ফেরারি হিসেবে কখনও দুবাই কখনো লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশের আবেদনে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ছিলেন মোস্ট ওয়ানন্টেডের তালিকায়। তবে শেষ রক্ষা হলো না তার।

দুবাই বিমানবন্দর থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে আলোচনায় কিভাবে ফেরানো হবে পুলিশের এই আলোচিত ও নিন্দিত এই সাবেক আইজিপিকে?বাংলাদেশ পুলিশকে আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) যে চিঠি পাঠিয়েছে, সেখানে বলা আছে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হওয়া এবং দুবাইয়ে তার গ্রেফতার—দুটি বড় ধাপ পার হয়েছে। তাছাড়া বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়। এটি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেনজীর আহমেদের মতো দুর্নীতির রাঘব বোয়ালদের দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত হলে কমবে অপরাধ প্রবণতা।বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। দেশগুলো হলো: ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আরব আমিরাতের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি নেই। তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও আরব আমিরাত থেকে অতীতে বিভিন্ন সময় আসামি বা বন্দি ফিরিয়ে আনার একাধিক নজির রয়েছে।

ঢাকা্/আরএইচ

 

শেয়ার করুন

বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

আপডেট: ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দুবাইয়ে গ্রেফতার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কূটনীতি বিশ্লেষক বলছেন, রাজনৈতিক মামলা না থাকায় তাকে ফেরানো কঠিন হবে না। আর অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বেনজীরকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা গেলে কমে আসবে দুর্নীতির প্রবণতা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঙ্কার দেয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ নিজেই জড়িয়ে পড়েন সীমানহীন দুর্নীতিতে। এক দশকেরও বেশি সময় ছিলেন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, আবার কখনও নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় বারবার ছিলেন আলোচনায়।একাধিক মামলার ফেরারি হিসেবে কখনও দুবাই কখনো লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশের আবেদনে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ছিলেন মোস্ট ওয়ানন্টেডের তালিকায়। তবে শেষ রক্ষা হলো না তার।

দুবাই বিমানবন্দর থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে আলোচনায় কিভাবে ফেরানো হবে পুলিশের এই আলোচিত ও নিন্দিত এই সাবেক আইজিপিকে?বাংলাদেশ পুলিশকে আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) যে চিঠি পাঠিয়েছে, সেখানে বলা আছে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হওয়া এবং দুবাইয়ে তার গ্রেফতার—দুটি বড় ধাপ পার হয়েছে। তাছাড়া বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়। এটি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেনজীর আহমেদের মতো দুর্নীতির রাঘব বোয়ালদের দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত হলে কমবে অপরাধ প্রবণতা।বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। দেশগুলো হলো: ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আরব আমিরাতের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি নেই। তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও আরব আমিরাত থেকে অতীতে বিভিন্ন সময় আসামি বা বন্দি ফিরিয়ে আনার একাধিক নজির রয়েছে।

ঢাকা্/আরএইচ