খুলনার ৫৩ গ্রাম পানির নীচে, কাজে আসছে না সেচ পাম্প প্রকল্প
- আপডেট: ০১:২২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১
- / ১০৩৭৯ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: যশোরের দুঃখ খ্যাত ভবদহ অঞ্চলের ৫৩ গ্রাম পানির নিচে। বাড়ির উঠানে হাঁটু জল থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। অনেকের ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পানি। রান্না করার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করেছে ওই সব গ্রামবাসী। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবির প্রেক্ষিতে সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএডিসি ও পাউবো যৌথ উদ্যোগে সেচ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু মাসে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবদহ স্লুইচ গেট দিয়ে সেচ পাম্পে পানি নিস্কাশন কার্যক্রম সুফল বয়ে আনতে পারেনি। বরং বিলে পানি না থাকায় গেল বছরের তুলনায় এবার বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ আরো কমে গেছে। এখনও অন্তত ২০ গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউট
ভরাট হতে থাকা হরি নদীর মাঝে আড়াআড়ি দেয়া স্লুইচ গেটটি। আস্তে আস্তে সেটি অকার্যকর হয়েও পড়ে। যা বর্তমানে ভবদহের দুঃখ বলে পরিচিতি পেয়েছে। আর একারণে বর্তমানে ৫৩টি বিল জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এই বিশাল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সেচ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার সফলতা নিয়ে মানুষ সন্দিহান
যশোর-খুলনার দুঃখ হিসেবে খ্যাত ভবদহের স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএডিসি ও পাউবো যৌথ উদ্যোগে সেচ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু মাসে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবদহ স্লুইচ গেট দিয়ে সেচ পাম্পে পানি নিস্কাশন কার্যক্রম সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ভবদহ তৎসংলগ্ন বিলে ফসল ফলাতে ও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) ও বিএডিসি (বাংলাদেশ কষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের শুরুতেই এ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা এ পদ্ধতিকে সাগরে ঢিল ফেলার সাথে তুলনা করেছেন। ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১২ সালে সরকার ৬৮কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু সেই প্রকল্প কোন কাজে আসেনি।
এছাড়া বছর দুয়েক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে একটি প্রকল্প জমা দেয় যা বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের জন্য ৪৩কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের বিল কেদারিয়া পাড়ের বাসিন্দা সত্য বিশ্বাস বলেন, সেই ৮০সালের দিকে ভবদহে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আজ ৪০বছর ধরে চলছে। কিন্তু দিনের পর দিন এর বিস্তৃতি বাড়ছে। উপকার হচ্ছে প্রভাবশালীদের। তারা সরকারের বরাদ্দ আনছে আর লুট করছে। হাটাগাছা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হরিপদ বলেন, ঘরের চারপাশে জল। কিন্তু একটুও খাওয়ার উপযোগী নেই। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ঘরেই থাকে। ঘরের নীচ দিয়ে মাছ চলে বেড়ায়। কিন্তু তা ধরে খাওয়ার কোন উপায় নেই। প্রভাবশালীরা সেখানে নেট পাটা দিয়ে মাছ চাষ করছে।আমাদের দেখার কেউ নাই।
বিএডিসির যশোরাঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সেচ বিভাগ) আব্দুল্লাহ আল রশিদ জানান, এ অঞ্চলের বিলে ফসল ফলাতে ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পাউবোকে বিএডিসি ৩০এইচপি (হর্স পাওয়ার) পাওয়ারের ২০টি পাম্প সরবরাহ করে। যা রক্ষণাবেক্ষণে বিএডিসির ৮ জন শ্রমিকসহ একজন উপ-প্রকৌশলী সেখানে সার্বক্ষণিক দেখভাল করে থাকেন।
পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বিএডিসির কাছ থেকে ২০টি পাম্প পাওয়া গেলেও চাহিদার তুলনায় কম। তাই আরও বড় পাম্প নিতে ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ের ডিপিপি জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২বছর আগে প্রায় ৮শ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পড়ে আছে। সেটিরও অনুমোদন মেলেনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির সেচ প্রকল্প কতটা সফল এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরি নদী খননসহ এর শাখা প্রশাখা খননের কোন বিকল্প নেই। ভবদহের জল হরি নদী দিয়ে ভদ্রা, ঘ্যাংরাইল হয়ে শিপসা নদীতে পড়ে সাগরে মিশে আছে। তাই ভবদহের মধ্যে খালের মুখের বাঁধ অপসারণ করতে হবে
ভুক্তভোগী কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএডিসির ৮ লেবারের জন্য প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা ব্যয়সহ সেচ পাম্পে নির্বিগ্নে পানি সরবরাহে পউবোর আওতায় প্রায় তিন কোটি ব্যয়ে টেকা নদী খনন করা হচ্ছে। কিন্তু এত কর্মযজ্ঞের পরও এ সেচ কার্যক্রম এ অঞ্চলের মানুষের উপকারে আসেনি। গেল বারের চেয়ে এবার বোরো মৌসুমে ভবদহ সংলগ্ন বিলগুলোতে ধানের আবাদ কমেছে। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, গত বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। ভবদহ সংলগ্ন ৫টি বিলের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ কমে গেছে।
ভবদহ পানি সংগ্রাম কমিটির নেতা কমরেড আব্দুল হামিদ বলেন, সম্প্রতি ভবদহ সংলগ্ন ৩০ গ্রামের মানুষের সাথে এক সভায় উপস্থিত একজনও বলেনি সেচ পাম্পে পানি নিস্কাশনে উপকৃত হয়েছেন। বাজেকুলটিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পরমানন্দ রায় বলেন, বাজেকুলটিয়া, হাটগাছা, ডহর মশিয়াহাটি, সুন্দলী, আন্দা, ডুমুরতলা, বেবভিটাসহ কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, লিকেজ একটু হচ্ছে কিন্তু তা বন্ধে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা/এমটি







































