নির্দেশনা সত্ত্বেও তথ্য প্রদানে কোম্পানিগুলোর গড়িমসি
- আপডেট: ০১:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২
- / ১০৩৪০ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে নির্দেশনা সত্ত্বেও তথ্য প্রদানে কোম্পানিগুলো গড়িমসি করছে বলে বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে। যে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য উপাত্ত দিতে দেরি করছে বা দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ রবিবার (৫ জুন) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) উদ্যোগে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) নিয়ে কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব হুশিয়ারি দেন।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
এসময় তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্যের অভাবে বিনিয়োগকারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য যে কোন তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার আহবান জানান। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত তাদের তথ্যগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করছেনা। একাধিকবার নির্দেশন দেয়ার পরও তারা তা বাস্তবায়ন করছেনা।
যেসকল প্রতিষ্ঠান কমিশনের নির্দেশন এখনও পালন করেননি তাদের সকল তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের আহবান জানান।
শেখ শামসুদ্দিন বলেন, আমাদের হাতে ক্ষমতা থাকার পরেও আমরা চাই না কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। তবে কেউ যদি বার বার নোটিশ দেওয়ার পরও আমাদের তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা না করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
তিনি বলেন, আমাদের বাজারে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষ ট্রেডার। যারা আসে এবং চলে যায়। আরেকটি পক্ষ হচ্ছে বিনিয়োগকারী। তবে আমাদের দেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগকারী থাকা উচিত, তা নেই। একটি বাজারে ট্রেডার এবং বিনিয়োগকারী থাকবেই। তবে আমাদেরকে এখনো চেষ্টা করতে হচ্ছে ট্রেডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিনিয়োগকারী বাড়ানোর। তবে শেয়ারবাজারে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস করা ঊভয় পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কারন হিসাবে তিনি বলেন, এই বাজারে কিছু টেকনিক্যাল প্রোডাক্ট রয়েছে। সামনে আসতে যাচ্ছে ইটিএফ। যা না বুঝে কাজ করাটা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় একজন বিনিয়োগকারী তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করতে চাইলেও পারে না। কারন কিছু কোম্পানি এখনো কোম্পানির সব তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে না। ফলে কেউ বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করতে চাইলেও তথ্যের অভাবে তা পারছে না। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ২ বছরে চিঠি দিয়েও সম্ভব হয়নি।
কমিশনার বলেন, যদি একটি কোম্পানির নিরীক্ষিত হিসাব না পাওয়া যায়, তাহলে একজন বিনিয়োগকারী ওই কোম্পানির সর্ম্পক্যে কিভাবে জানবেন। ওই কোম্পানির কি আছে, কি নাই এবং ব্যবসায়িক অবস্থা সর্ম্পক্যে জানতে আর্থিক হিসাবের দরকার। অন্যথায় একজন বিনিয়োগকারীর লোকসানের সম্ভাবনা থাকে। তাই আমরা সব কোম্পানিকে ওয়েবসাইটে আপডেট তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করব। এ বিষয়ে আমরা কঠোর হয়ে কাউকে শাস্তি দিতে চাই না। তবে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আইনগত সক্ষমতা আছে।
কর্মশালায় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) নিয়ে নিয়ে দুটি প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় প্রথম পর্বে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ ফয়সাল আব্দুল্লাহ। দ্বিতীয় পর্বে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডিএসইর ডিজিএম সৈয়দ মাহমুদ যুবায়ের।
সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন সভাপতি জিয়াউর রহমান।
ঢাকা/টিএ



































