তুরাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গুদামে বিস্ফোরণে ৩ জনের মৃত্যু
- আপডেট: ১২:২২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অগাস্ট ২০২২
- / ১০৩৫৭ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার তুরাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের একটি গুদামে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ আটজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই তিনজনই রিকশাচালক। তাঁরা বিস্ফোরণের সময় ভাঙারির দোকানের পাশের রিকশা গ্যারেজে ছিলেন।
গতকাল শনিবার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা মারা যান। তাঁরা হলেন নূর হোসেন (৬০), গাজী মাজহারুল ইসলাম (৪৫) ও আলমগীর হোসেন আলম (২৩)।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক এস এম আইউব হোসেন বলেন, নূর হোসেনের শরীরের ৯৫, গাজী মাজহারুলের ৩২ ও আলমের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আরও পাঁচজন চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
পুলিশ বলছে, গাজী মাজহারুলের বাড়ি তুরাগের কামারপাড়া এলাকায়। তিনি ভাঙারি দোকানের ব্যবসা করতেন। রিকশার গ্যারেজটিও তাঁর ছিল। নূর হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। বামনারটেক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।
আলমের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দিলবালিয়া গ্রামে। তিনি কামারপাড়ায় রিকশার গ্যারেজের কাজ করতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন আইউব হোসেন বলেন, অন্য দগ্ধদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। প্রত্যেকের শরীর ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে কামারপাড়া এলাকায় গাজী মাজহারুল ইসলামের গুদামে ওই বিস্ফোরণ হয়। পুলিশ বলছে, গুদামটি লাগোয়া রিকশার একটি গ্যারেজ রয়েছে। ওই গ্যারেজের মালিকও গাজী মাজহারুল ইসলাম। গ্যারেজের রিকশা চালকদের নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জার সরানোর সময়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে পারলেও সেখানে থাকা ৮ জনই দগ্ধ হন।
দগ্ধদের সঙ্গে হাসপাতালে আসা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, রিকশা গ্যারেজের ভেতর পুরোনো ভাঙারি মালামাল ছিল। সেখানে স্ক্যাপ মেশিনে চাপ দিয়ে মালামাল এক করার সময়ে এর ভেতর থাকা স্প্রে বোতল ছিল। হঠাৎ ওই বোতলগুলো থেকে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।
দগ্ধদের একজন মো. শাহীন জানান, ঘটনার সময়ে তিনি গ্যারেজে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণে তিনি দগ্ধ হন। ভাঙারির দোকানের সামনে ড্রেনের লাইনে পুরোনো পারফিউমের বোতল পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে ছিল। সেখান থেকে একজন বোতলগুলো তুলে তা স্ক্যাপ মেশিনে চাপ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ হয়।
তুরাগ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মূলত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গুদামে অতি দাহ্য পদার্থ। হয়তো গুদামটি অবৈধ হওয়ায় মালিক মাজহারুলের লোকজন বিষয়টি স্বীকার করছিলেন না। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, রিকশা গ্যারেজ ও কিছু পুরোনো মালামাল অক্ষত রয়েছে।
তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে, স্যানিটাইজারের জার সরানোর সময়ে কেউ ধূমপান করলে সেখানে বিস্ফোরণে আগুন লাগে বা এসিড ভরা জারগুলোতেও গ্যাস জমে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন।






































