ফেসবুক যদি কোনো সংবাদমাধ্যমের সংবাদ শেয়ার করে, সেক্ষেত্রে ওই সংবাদমাধ্যমেকে টাকা দিতে হবে- অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে এমন একটি আইন পাসের পর থেকে দেশটির ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের পেইজে কোনো সংবাদমাধ্যমের সংবাদ দেখতে পাচ্ছেন না।

১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে কোনও সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেইজে যেতে পারছেন না তারা। অস্ট্রেলিয়ার বাইরের দেশগুলোর ব্যবহারকারীরাও দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর ফেসবুক পেইজ খুঁজে পাচ্ছেন না।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, ‘সংবাদ কনটেন্ট ব্লক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক আমাদের কাছ থেকে আস্থা হারিয়েছে।’ গুগল ও ফেসবুকের মতো অন্যান্য কোম্পানি প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা করে আসছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার অস্ট্রেলিয়ার আইনসভায় একটি আইন পাস করেছে দেশটির সরকার। সেখানে বলা হয়েছে- গুগল, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যদি তাদের সাইটে অস্ট্রেলিয়ার কোনো সংবাদমাধ্যমের সংবাদ কনটেন্ট শেয়ার করে, সেক্ষেত্রে ওই সংবাদমাধ্যমকে টাকা দিতে হবে।

দেশটির যোগাযোগ, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী পল ফ্লেচার বলেন, ‘নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ফেসবুককে সতর্কভাবে কাজ করতে হবে।’

রুপার্ট মার্ডকের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কনটেন্ট শেয়ারের জন্য টাকা দেওয়ার বিষয়ে গুগল রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল ফেসবুক।

অস্ট্রেলিয়ার কমপিটিশন অ্যান্ড কনজ্যুমার কমিশন বলেছে, দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠা করার জন্য আইনটি পাস করা হয়েছে।

অন্যদিকে এক ব্লগপোস্টে ফেসবুক বলছে, ‘এই আইনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় নিউজ কনটেন্ট শেয়ারের জন্য আমাদেরকে টাকা দিতে হবে। আর আমরা এ শর্তে রাজি নই। তাইে ফেসবুক তার নিজের সাইটে দেশটির নিউজ সাইটগুলো ব্লক করেছে।’

প্রথম পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি দেশটির অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ব্যুরো অব মিটারোলজি, পুলিশসহ অন্যান্য জরুরি বিভাগের নিউজ শেয়ারিং সাইটগুলোও ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক, পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করা হয়।

এই বিষয়ে ফেসবুক বলছে, অসাবধানতার কারণে এসব সাইট ব্লক করা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here