তালিকাভুক্তির প্রথম বছরেই বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেয়ায় বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের (টপ ম্যানেজমেন্ট) জরুরি তলব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিএসইসির কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে বৈঠক করে রবির পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করায় রবির টপ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কোম্পানিটির টপ ম্যানেজমেন্টকে কমিশনে ডাকা হয়েছে।’

বিএসইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের সময় রবি আজিয়াটার পক্ষ থেকে কথা দেয়া হয়েছিল তালিকাভুক্তির প্রথম বছরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়া হবে। কিন্তু রবির পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কমিশন অসন্তুষ্ট হয়েছে। এ কারণেই কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে।

এদিকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে রবি। ভার্চুয়ালি আয়োজন করা ওই সংবাদ সম্মেলনে ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আর্থিক অবস্থা নিয়ে কথা বলবে রবি। তবে বিএসইসির পক্ষ থেকে ওই সংবাদ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রবির কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শাহেদুল আলম বলেন, ‘লভ্যাংশ না দেয়ার বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের। শেয়ারহোল্ডাদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আইপিও অনুমোদনের আগে আপনাদের পক্ষ থেকে বিএসইসিকে কথা দেয়া হয়েছিল তালিকাভুক্তির প্রথম বছরে লভাংশ দেয়া হবে। তাহলে আপনারা এই কথা রাখলেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।’

বিএসইসি জরুরি তলব করায় মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনের সময় পেছানো হবে কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে শাহেদুল আলম বলেন, ‘আমি এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আইপিও খরচের কথা বলে এই মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করেছে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন হচ্ছ।

লেনদেনের প্রথম দিন থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মহাদাপট দেখায়। লেনদেনের প্রথম কার্যদিবস থেকে টানা ১৫ কার্যদিবস দাম বেড়ে কোম্পানিটির ১০ টাকার শেয়ার ৭৭ টাকা ১০ পয়সায় উঠে যায়। এর মধ্যে লেনদেনের প্রথম ১৩ কার্যদিবসের প্রতিদিন দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিহাস সৃষ্টি করে কোম্পানিটি।

সূত্রঃ জাগোনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here