চলচ্চিত্র শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হলগুলো আধুনিকায়ন ও নতুন হল নির্মাণের জন্য মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের আলোকে দীর্ঘ মেয়াদী এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে সার্ক্যুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি সিনেমা হলের মালিকগন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি টাকার অধিক হবে না।

রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডির মহাব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য চলচ্চিত্রের অবদান অপরিসীম। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পী ও কলাকুশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ এপ্রিল ২০১২ তারিখে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সুস্থ জাতি গঠনে বিনোদন জগতের সর্ববৃহৎ মাধ্যম চলচ্চিত্র এবং সিনেমা হলগুলোকে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্র শিল্প বিকশিত হয়। নব্বইয়ের দশকে এ দেশে এর পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৪ শত। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের সুস্থধারার বিনোদন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করা হবে। যাতে করে সিনেমা হল মালিকগণ নতুন নতুন সিনেমা হল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলো সংস্কার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে সক্ষম হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার কোটি টাকার প্রথম ধাপে পাঁচশত কোটি টাকা বিতরণ করবে। এরপর প্রথম ধাপে ঋণ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হলে দ্বিতীয় ধাপে বাকি পাঁচশত কোটি টাকা বিতরণ করবেন।

ঋণ গ্রহণকারীরা ব্যাংক হতে নির্ধারিত ১.৫% হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫.০% মুনাফা এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ৪.৫% মুনাফা হারে ঋণ পাবেন। এর পরিশধ তিন মাসিক কিস্তিতে ৮ বছর মধ্যে পরিশোধ করবেন। গ্রাহকরা নিকটস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here