সমুদ্রসৈকত থেকে, পাহাড়ি রাস্তা কিংবা বরফে আচ্ছাদিত পাহাড়, ২০২০ সালের প্রায় পুরোটা সবই ছিল জনমানবশূন্য। টানা কয়েক মাস আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল সব পর্যটন স্থান। কোটি কোটি ডলার লোকসান গুনেছে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। ২০২১ সালেও পর্যটন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে না বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন সংস্থা। মহামারিতে সারাবিশ্বের পর্যটন খাতের সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের লোকসান হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল বলছে, একেবারে ২০২২ সালে স্বাভাবিক হতে পারে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা, যদি ২০২১ সালের জুন থেকে স্বাভাবিক হয় আন্তর্জাতিক পর্যটন। সূত্র:সময় নিউজ

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের চাকরি গেছে। ২০২২ সাল নাগাদ হারানো চাকরি ফিরে পাবেন তারা, যদি টিকাদান কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সারাবিশ্বে পরিচালিত হয়। এই খাত থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চলতি বছর আসতে পারে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ২০২২ সালে মহামারি পূর্ববর্তী অবস্থায় চলে যেতে পারে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা। বছর ব্যবধানে ২০২২ সালে আরো ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে পর্যটন খাতের।  

২০২০ সালে পর্যটন খাত থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ হারিয়েছে সারা বিশ্ব। লোকসান হয়েছে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বের মোট অর্থনীতির সাড়ে ৫২ শতাংশ। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ পর্যটন কমেছে ৪৫ শতাংশ। 

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার রিপোর্ট বলছে, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে ৬৯টি দেশে সীমান্তই বন্ধ। এর মধ্যে এশিয়া আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ৩০টি, ইউরোপের দেশ ১৫টি, আফ্রিকার দেশ ১১টি, আমেরিকার দেশ ১০টি আর ৩টি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, চলতি বছরও আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে না। মানুষ ভ্রমণের জন্য আকুল হয়ে থাকলেও পর্যটন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। 

আইএটিএ বলছে, চলতি বছরের মে বা জুন মাস থেকে প্রাণ ফিরে পেতে পারে পর্যটন খাত। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা আগের অবস্থায় যেতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৮ মাস। বিশ্বের ৩৩টি রাষ্ট্র আর অঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়া আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে আইএটিএ। তবে সাবধান থাকতে হবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে।

বিজনেসজার্নাল/ঢাকা/এসআই

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here