টানা তিন মাস ইতিবাচক ধারায় লেনদেনের পর হঠাৎ করে অক্টোবর মাসে বিদেশী ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ কমেছে প্রায় অর্ধেক।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, অক্টোবর মাসে প্রাবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫১২ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার আগের মাস সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয়েছিল ৯৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বিদেশিদের লেনদেন কমেছে ৪৫৯ কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে ‘পুঁজিবাজার ভালো থাকবে’ এই প্রত্যাশায় নতুন করে বিদেশিরা বাজারে আসতে শুরু করে। কিন্তু বড় মূলধনী ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির চেয়ে ছোট ছোট কোম্পানি শেয়ারের দাম বাড়ায় এখন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনো নিস্ক্রিয়। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবদান মাত্র ৩ শতাংশ। সুতরাং এই পুঁজিবাজার চলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে। ফলে বিদেশিরা পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে চলে গেলেও বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না।

ডিএসইর তথ্য মতে, অক্টোবর মাসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিদেশীদের লেনদেনের পরিাণ ৫১২ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ অক্টোবর মাসে পুঁজিবাজারে বিদেশিদের অবদান মাত্র ৩ দশমিক ০১ শতাংশ।

এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয়েছে ২২ হাজার ২৫৭ কোটি ৮ ১লাখ ২ হাজার টাকা। আর সেই মাসে বিদেশীদের লেনদেন হয়েছিল ৯৭১ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসেও বিদেশিদের অবদান ছিলো খুবই সামান্য। তার আগের মাস আগস্টে বিদেশিদের ৯৬৯ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পনের দিনে লেনদেন হয়েছিল ৪৫৫ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর শেষ পনের দিনে লেনদেন হয়েছে ৫১৪ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, দ্বিতীয় দফা কারোনার শঙ্কায় বিদেশীরা নতুন বিনিয়োগ করছে না। তবে এটি বেশি সময় থাকবে না। আমার প্রত্যাশা হয়তো ১ মাস পর আবার তারা পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করবেন।