মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (এনআরএ) হালনাগাদ করে রিপোর্ট তৈরিতে কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থার ১০টি সাব-কমিটি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের সিআইডি, এনবিআর, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ মানিলন্ডারিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ওই সাব-কমিটিগুলো গঠিত হয়।

ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (এনআরএ) হালনাগাদপূর্বক রিপোর্ট প্রণয়নের লক্ষ্যে ওই সাব-কমিটিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী ৩০ জুন এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিংয়ের (এপিজি) কাছে এনআরএ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে।

সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) আ ন ম আল ফিরোজের সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩১ মার্চ এনআরএ হালনাগাদ রিপোর্ট বিষয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে।

দুদক মহাপরিচালক আ ন ম আল ফিরোজের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে দুদকের অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এনআরএ প্রতিবেদন তৈরিতে ১০টি সাব-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে সিআইডির নেতৃত্বে গঠিত সাব কমিটি রিপোর্ট দাখিল করেছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে অন্যান্য কমিটিরও রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ৩০ জুন এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিংয়ের (এপিজি) কাছে পূর্ণাঙ্গ এনআরএ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আমরা আশা করছি বাংলাদেশের রেটিং উন্নয়ন হবে।

দুদক ও এনবিআর সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এনআরএ হালনাগাদপূর্বক রিপোর্ট প্রণয়নের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত কোর কমিটি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত সেক্টর ভিত্তিক সাব কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সভা ছাড়াও প্রতিনিয়ত ওই সব কমিটির মধ্যে অনলাইন মিটিং হচ্ছে।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১১টি মানদণ্ড রয়েছে। এটি বিবেচনায় কোনো দেশ জঙ্গি, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ করতে না পারলে প্রথমে ওই দেশকে এপিজি ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ওই দেশকে কালো তালিকায় নেওয়া হয়। তেমনটি হলে ওই দেশের সঙ্গে অন্য দেশগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আগ্রহ হারায়।

সাধারণত প্রতি ৩ বছর পরপর একটি দেশের ওপর এ মূল্যায়ন করা হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যায়ন করা হয়েছিল। ২০১৬-তে এপিজি মূল্যায়ন করেছিল- বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ ও দেশের ভেতর সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বয়ে এপিজি গঠিত। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রায় সব দেশেই আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট নামে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ৪১টি দেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (এফআইইউ) এপিজির সদস্য।

এর আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ সভায় অর্থপাচার রোধে তদরকি আরও বাড়ানোর পরামর্শ এসেছিল এপিজি সম্মেলন থেকে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বাতিল করা হয়।

বিজনেসজার্নাল/এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here