ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে আজ শুক্রবার ঢাকায় আসছেন। সকাল ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির এটি দ্বিতীয় ঢাকা সফর। এর আগে ২০১৫ সালের ৬ ও ৭ জুন সফর করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সেই সফরে দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবার জাতির মাহেন্দ্রক্ষণে তার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে অনন্য মাইলফলক যোগ হবে বলে সরকার আশা করছে।

নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে প্রস্তুত ঢাকা। তার সফরের সময়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে ঢাকা ও তার সফরের স্থানগুলো। এ ছাড়া যারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং তার সংস্পর্শে যাদের আসার সম্ভাবনা আছে, তাদের সবার কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ লাগবে।

১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জাগয়া পেয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের জনগণ বন্ধুত্বের যে প্রসারিত হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই অবদানের কথা বাংলাদেশের মানুষ ভোলেনি। ভারতের জনগণও ভোলেনি সেই বন্ধন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এই উদযাপনে নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণকে ভারতের জনগণের অটুট-অকৃত্রিম বন্ধনের আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের স্বাক্ষর হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর তিনি ঢাকায় তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে আসবেন। বিকেলে তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। এর পর তিনি যাবেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২৭ মার্চ সকালে হেলিকপ্টারে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিস্থলে যাবেন। এরপর ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

টুঙ্গিপাড়া থেকে ফিরে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এখানেই দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন ও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি যাবেন বঙ্গভবনে। সেখানে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

পাঁচটির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা: বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাঁচটির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এরই মধ্যে কিছু বিষয়ে উভয়পক্ষ সমঝোতায় এসেছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতার জন্য দেনদরবার চলছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, কারও কারও ভিন্নমত থাকতে পারে। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতা করতে পারেন। কিন্তু কয়েকজন মানুষের বিরোধিতার কোনো প্রভাব এই সফরে পড়বে না। দুই দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই সফরে খুশি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

বিজনেসজার্নাল/এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here