যশোর যেন মিছিলের শহর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে যশোর শহর। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থল শহরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে আসছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

যশোর জেলার আট উপজেলাসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসছেন। সকাল থেকেই জনসভাস্থল অভিমুখে মানুষের ঢল দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদা গেঞ্জি ও লাল-সবুজ টুপি পরে পুরুষ কর্মী-সমর্থকরা এবং লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি পরে নারী কর্মী-সমর্থকরা এসব মিছিলে আছেন। সকাল থেকে যশোর শহরের বিভিন্ন সড়কে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

যশোরের গদখালি থেকে আসা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার এলাকা থেকে ৫ হাজার লোকের একটি মিছিল চাচড়া থেকে হেঁটে জনসভায় এসেছে।’

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের নিজ এলাকা শহরের কাজীপাড়া থেকে একটি বিশাল মিছিল ৮টা ৪৫ মিনিটে বের হয়। ভুভুজেলা বাজিয়ে নেচে নেচে-গেয়ে মিছিলটি শামস্-উল হুদা স্টেডিয়াম অভিমুখে যান নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিলে কাজী নাবিল আহমেদের ছবি সংবলিত সাদা গেঞ্জি এবং লাল-সবুজ টুপি পরিহিত অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।

এছাড়া যশোর শহরের রতন করবার বিবি রোড এবং অন্যান্য এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনতা সমাবেশস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে। জনসভার বাইরে রাস্তাতেও লোকসমাগম বেশি। মিছিল নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক কলেজের গেট দিয়ে প্রবেশের পর স্টেডিয়ামের অংশে এগোচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

দুপুর ২টার দিকে যশোর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। যশোর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জানান, এই জনসভায় ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ উপলক্ষে চলেছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরো শহর সাজানো হয়েছে তোরণে, ব্যানারে ও পোস্টারে। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনা যশোরে জনসভায় আসছেন। এই জনসভা সফল করতে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য আট থেকে ১০টি প্রবেশদ্বার খোলা হয়েছে। সভায় আগতদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জনসমাবেশ ঘিরে নিশ্চিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। জনসভাস্থলে পাঁচ স্তর এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সকালে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর বলেন, ‘জনসভাস্থলে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। গোটা যশোর জেলার ৮ উপজেলা গোয়েন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। বিভিন্ন স্তরে চৌকস অফিসার ও ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।’

আরও পড়ুন: অর্থনীতি গতিশীল ও নিরাপদ আছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ দেওয়ার ৫০ বছর পর সেই যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হচ্ছেন শেখ হাসিনা। দেশের দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত প্রভাবে ‘নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার ডালি’ নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।

তারা বলছেন, দক্ষিণবঙ্গে আওয়ামী লীগের যে ঐতিহ্যগত প্রভাব ও অবস্থান, বহুদিন পর যশোরে সমাবেশে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তা আদতে ‘দখিনা হাওয়া’ বয়ে এনেছে। কমে এসেছে নেতায়-নেতায় দূরত্ব। 

নেতাদের ভাষ্য, বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নে যে বিস্তর ভূমিকা রেখেছে, তার কৃতজ্ঞতা জানাতেই শেখ হাসিনার মহাসমাবেশকে সফল করবেন এই বঙ্গের মানুষ।

ঢাকা/এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here