০৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইবি ছাত্রী নির্যাতনে কুষ্টিয়ার ডিসিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ১০৪৩৪ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কমিটি গঠনের সাতদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে এ নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

আদালতের আদেশ অনুসারে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা থাকবেন। জেলা জজ মনোনীত বিচারবিভাগীয় একজন কর্মকর্তা থাকবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক থাকবেন।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটকারী আইনজীবী গাজী মো. মহসীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলের পাশাপাশি কয়েক দফা নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মহসীন রিট করেন। রিটের পক্ষে বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে তিনদিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ডিসির করা কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, অ্যাডমিন ক্যাডার এবং জেলা জজ মনোনীত একজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে রাখতে বলা হয়েছে। আর তদন্ত চলাকালে ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী ও তাবাসসুমকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি চাইলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদালত বলেছেন, চাইলে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফৌজদারি মামলাও করতে পারবেন।

এর আগে নির্যাতনের ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে রিটে জড়িতদের হাইকোর্টে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধারণ করা ভিডিও অপসারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

গত রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হল প্রভোস্ট, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী। এসময় তার সঙ্গে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তাবাসসুমসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবিতে ভর্তির কয়েকদিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান।

এ বিষয়ে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আইনজীবী আজগর হোসেন তুহিন। তখন আদালত আইনজীবীদের লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রিটটি করা হয়।

জনস্বার্থে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মোহসীন রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

ইবি ছাত্রী নির্যাতনে কুষ্টিয়ার ডিসিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ

আপডেট: ০৬:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কমিটি গঠনের সাতদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে এ নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

আদালতের আদেশ অনুসারে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা থাকবেন। জেলা জজ মনোনীত বিচারবিভাগীয় একজন কর্মকর্তা থাকবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক থাকবেন।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটকারী আইনজীবী গাজী মো. মহসীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলের পাশাপাশি কয়েক দফা নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মহসীন রিট করেন। রিটের পক্ষে বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে তিনদিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ডিসির করা কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, অ্যাডমিন ক্যাডার এবং জেলা জজ মনোনীত একজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে রাখতে বলা হয়েছে। আর তদন্ত চলাকালে ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী ও তাবাসসুমকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি চাইলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদালত বলেছেন, চাইলে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফৌজদারি মামলাও করতে পারবেন।

এর আগে নির্যাতনের ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে রিটে জড়িতদের হাইকোর্টে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধারণ করা ভিডিও অপসারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

গত রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হল প্রভোস্ট, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী। এসময় তার সঙ্গে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তাবাসসুমসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবিতে ভর্তির কয়েকদিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান।

এ বিষয়ে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আইনজীবী আজগর হোসেন তুহিন। তখন আদালত আইনজীবীদের লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রিটটি করা হয়।

জনস্বার্থে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মোহসীন রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

ঢাকা/টিএ