১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুজবই সত্যি: মিনোরি আসছে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানায়

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • / ১০৪৪১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের মালিকানায় আসছে মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেড। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় জাপানি এই প্রতিষ্ঠানকে ফু-ওয়াং ফুডসকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে মালিকানায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মিনোরি বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এমারেল্ড অয়েলের মালিকানা কিনে নিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিটিকে উৎপাদনে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানায় আসতে মিনোরি বাংলাদেশকে সম্মতি দিয়েছে বিএসইসি। কমিশন মনে করছে, জাপানি প্রতিষ্ঠান মিনোরি মালিকায় এসে লোকসানে থাকা ফু-ওয়াং ফুডের ব্যবসায় ফিরেয়ে আনার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ করবে।

তবে মিনোরি বাংলাদেশ যে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানায় আসছে বিষয়টি আগে থেকেই বাজারে আলোচনার শীর্ষে ছিল। যার আলোকে শেয়ারটির দর বাড়ছে।

কোম্পানির তথ্য মতে, কোম্পানির উদ্যোক্তা-হাতে কোম্পানির মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অথচ নিয়ম অনুসারে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নূন্যতম ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। কিন্তু এই নিয়ম পালন করেনি কোম্পানিটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, মিনোরিকে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মিনোয়ারিকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগকৃত অর্থ আলাদা একটি ব্যাংকের হিসাবে জমা দিতে হবে।

এদিকে মালিকানা হস্তান্তর হওয়ার খবরে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার দরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৫.৩০ টাকায়। আর ১৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে ২৩.৩০ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ এই ১৪ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮ টাকা বা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ফু-ওয়াং ফুডসের তিন পরিচালকের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে মিনোরি বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার বিক্রি করেছেন আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুম। ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩, এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে চিঠিতে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ৫টি শর্ত দিয়েছে বিএসইসি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিক্রেতা (শেয়ারহোল্ডার পরিচালক) এবং ক্রেতা এই বিষয়ে প্রযোজ্য উৎস কর জমা দেওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা প্রবিধানের রেগুলেশন ৩৪(১) অনুযায়ী উপযুক্ত ঘোষণা দেবেন। মাইনরি বাংলাদেশের নামে প্রস্তাবিত শেয়ার হস্তান্তরের কার্য সম্পাদনের পর, পরিচালকদের দ্বারা শেয়ারের নিরবচ্ছিন্ন হোল্ডিং বজায় রাখতে ক্রেতা ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালনা পর্ষদে স্থানান্তরিত ৭.৬১ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা তার বেশি ব্যক্তিকে মনোনীত বা প্রতিনিধি পরিচালক হিসাবে মনোনীত করবেন। ক্রেতা মাইনোরি বাংলাদেশ ফু-ওয়াং ফুডসের দায়বদ্ধতা নিয়মিতকরণ এবং কোম্পানিটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা শেয়ার মানি ডিপোজিট বা ঋণ প্রদান করবে। আর শেয়ার মানি ডিপোজিটের অর্থ কোম্পানিটির নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র ব্যাংকের দায়বদ্ধতা নিয়মিতকরণ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। আর ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালনা পর্ষদের দ্বারা ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর জন্য কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

উল্লেখ্য, মিনোরি মূলত বাংলাদেশি মালিকানায় জাপানি প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানিটি প্রধানত ধান, শাকসবজি ও ফলসহ অর্গানিক ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাত করে থাকে।

ঢাকা/এসআর

শেয়ার করুন

গুজবই সত্যি: মিনোরি আসছে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানায়

আপডেট: ০১:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের মালিকানায় আসছে মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেড। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় জাপানি এই প্রতিষ্ঠানকে ফু-ওয়াং ফুডসকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে মালিকানায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মিনোরি বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এমারেল্ড অয়েলের মালিকানা কিনে নিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিটিকে উৎপাদনে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানায় আসতে মিনোরি বাংলাদেশকে সম্মতি দিয়েছে বিএসইসি। কমিশন মনে করছে, জাপানি প্রতিষ্ঠান মিনোরি মালিকায় এসে লোকসানে থাকা ফু-ওয়াং ফুডের ব্যবসায় ফিরেয়ে আনার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ করবে।

তবে মিনোরি বাংলাদেশ যে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানায় আসছে বিষয়টি আগে থেকেই বাজারে আলোচনার শীর্ষে ছিল। যার আলোকে শেয়ারটির দর বাড়ছে।

কোম্পানির তথ্য মতে, কোম্পানির উদ্যোক্তা-হাতে কোম্পানির মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অথচ নিয়ম অনুসারে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নূন্যতম ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। কিন্তু এই নিয়ম পালন করেনি কোম্পানিটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, মিনোরিকে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মিনোয়ারিকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগকৃত অর্থ আলাদা একটি ব্যাংকের হিসাবে জমা দিতে হবে।

এদিকে মালিকানা হস্তান্তর হওয়ার খবরে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার দরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৫.৩০ টাকায়। আর ১৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে ২৩.৩০ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ এই ১৪ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮ টাকা বা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ফু-ওয়াং ফুডসের তিন পরিচালকের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে মিনোরি বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার বিক্রি করেছেন আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুম। ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩, এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে চিঠিতে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ৫টি শর্ত দিয়েছে বিএসইসি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিক্রেতা (শেয়ারহোল্ডার পরিচালক) এবং ক্রেতা এই বিষয়ে প্রযোজ্য উৎস কর জমা দেওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা প্রবিধানের রেগুলেশন ৩৪(১) অনুযায়ী উপযুক্ত ঘোষণা দেবেন। মাইনরি বাংলাদেশের নামে প্রস্তাবিত শেয়ার হস্তান্তরের কার্য সম্পাদনের পর, পরিচালকদের দ্বারা শেয়ারের নিরবচ্ছিন্ন হোল্ডিং বজায় রাখতে ক্রেতা ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালনা পর্ষদে স্থানান্তরিত ৭.৬১ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা তার বেশি ব্যক্তিকে মনোনীত বা প্রতিনিধি পরিচালক হিসাবে মনোনীত করবেন। ক্রেতা মাইনোরি বাংলাদেশ ফু-ওয়াং ফুডসের দায়বদ্ধতা নিয়মিতকরণ এবং কোম্পানিটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা শেয়ার মানি ডিপোজিট বা ঋণ প্রদান করবে। আর শেয়ার মানি ডিপোজিটের অর্থ কোম্পানিটির নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র ব্যাংকের দায়বদ্ধতা নিয়মিতকরণ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। আর ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালনা পর্ষদের দ্বারা ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর জন্য কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

উল্লেখ্য, মিনোরি মূলত বাংলাদেশি মালিকানায় জাপানি প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানিটি প্রধানত ধান, শাকসবজি ও ফলসহ অর্গানিক ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাত করে থাকে।

ঢাকা/এসআর