গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই লেনদেনে এনবিএল সিকিউরিটিজসহ কর্মকর্তাদের জরিমানা
- আপডেট: ০৪:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০২২৪ বার দেখা হয়েছে
গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার কেনাবেচা ও তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ব্রোকারেজ হাউজ এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও এর তিন কর্মকর্তাকে মোট ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবু সালেহ নামের এক বিনিয়োগকারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিএল সিকিউরিটিজের কর্মকাণ্ড তদন্তে নামে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন। তদন্তে দেখা যায়, ব্রোকারেজ হাউজটি গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই তার বিও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার কেনাবেচা করেছে। এছাড়া, লেনদেনের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ সংরক্ষণ না করা এবং গ্রাহকের অভিযোগের সুরাহা না করে উল্টো পেশাগত অসদাচরণের আশ্রয় নেওয়ার সত্যতা পায় কমিশন।
তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ রুলস লঙ্ঘনের জন্য ৮ লাখ, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্বের জন্য ১ লাখ এবং পেশাগত অসদাচরণের জন্য ১ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে তাদের।
একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জোবায়েদ আল মামুন হাসানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, তৎকালীন ব্যবস্থাপক আহমেদ ইফতেখার শহীদ এবং প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি জানায়, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং তার রেকর্ড সংরক্ষণ না করা গুরুতর অপরাধ। এটি পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করে। অভিযোগ পাওয়ার পরও তা নিষ্পত্তি না করা পেশাদারিত্বের অভাব ও আইনত দণ্ডনীয়।
বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বিনিয়োগকারীদের পকেটে কেউ ভাগ বসাতে চাইলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বাজার সংশ্লিষ্টরা বিএসইসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধে নিয়মিত এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জারি থাকলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষিত থাকবেন।
ঢাকা/এসএইচ



































