নাহিদের তাণ্ডবে কুপোকাত পাকিস্তান, ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
- আপডেট: ০৫:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / ১০২১৯ বার দেখা হয়েছে
জয়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে টাইগার বোলারদের তোপে সে পরিকল্পনা থেকে সরে ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করে শান মাসুদের দল। কিন্তু সুযোগ দেননি নাহিদ রানা। শেষ বিকেলে তার গতি আর সুইংয়ে কুপোকাত হয় সফরকারীরা। শেষ ৫ উইকেটের ৪টিই তুলে নেন তিনি। দেখা পান টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারের।
তার বোলিং ঝড়ের দিনে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। মিরপুরে মঙ্গলবার (১২ মে) সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রানে থামে সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ৪১৩ রানের জবাবে ৩৮৬ রান করেছিল পাকিস্তান। নাজমুল হোসেন শান্তর দল ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৪০ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছিল।
এ নিয়ে টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়ের দেখা পেল লাল সবুজরা। সবশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানকে তাদের ঘরের মাটিতে দুই টেস্টে ১০ ও ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজেও বল হাতে শান মাসুদদের বেশ ভুগিয়েছিলেন নাহিদ।
এদিকে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস হেরে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শান্ত, মমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে ৪১৩ রানের বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ১৩০ বলে ১২ ও ২ ছক্কায় ১০১ রান করেন শান্ত। সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারে এটি অষ্টম সেঞ্চুরি টাইগার অধিনায়কের। ২০০ বলে ১০ চারের মারে ৯১ রান করেন মমিনুল। ১৭৯ বলে ৮ চারের মারে ৭১ রান করেন মুশফিক। পাকিস্তানের হয়ে ৯২ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস। এছাড়া ১১৩ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
জবাব দিতে নেমে মিরাজ-তাসকিদের তোপে ৩৮৬ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ১৬৫ বলে ১৪ চারের মারে সর্বোচ্চ ১০৩ রান করেন আজান আওয়াইস। এছাড়া আব্দুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আলি আঘা ৫৮ আর ইমাম-উল-হক ৪৫ রান করেন। ১০২ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। এবারও জ্বলে ওঠেন শান্ত ও মমিনুল। তবে বাকিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। হাসান আলি, নোমান আলি ও শাহিনদের তোপে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৪০ রানে ইনিংস ষোঘণা করে স্বাগতিকরা। ১৫০ বলে ৭ চারের মারে ৮৭ রান করেন শান্ত। ১২০ বলে ৪ চারের মারে ৫৬ রান করেন মমিনুল। পাকিস্তানের হয়ে হাসান ও নোমান ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন শাহিন।
তাতে শেষদিনে দুই সেশনের বেশি সময়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রানের। শুরুতে ইমাম-উল-হকের (২) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। এরপর প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান আজান ও ফজল মিলে হাল ধরার চেষ্টা করেন। আজান ৩৩ বলে ১৫ রান করে মিরাজের শিকার হন। তবে ফিফটি তুলে নেন ফজল। তাকে তৃতীয় উইকেটে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক শান মাসুদ। ৫ বলে ২ রান করে তিনি নাহিদ রানার শিকার হন। অন্যদিকে দলের সংগ্রহ শতরান ছাড়িয়ে বিদায় নেন ফজল। ১১৩ বলে ১১ চারের মারে ৬৬ রান করে তাইজুলের বলে এলবিডব্লিউ হন ফজল। কিছুক্ষণ পর সালমান আঘাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। ৩৯ বলে ২৬ রান করে ক্যাচ দেন সালমান। তবে সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তাদের জুটিতে ড্রয়ের পথে হাঁটছিল পাকিস্তান।
কিন্তু নাহিদ রানা আক্রমণে এসে সব নড়বড়ে করে দেন। তার গতির ঝলকে একে একে বিদায় নেন শাকিল (১৫), রিজওয়ান (১৫) ও নোমান আলি (৪)। মাঝে হাসানকে (১) ফেরান তাইজুল। আর শাহিন আফ্রিদিকে ক্যাচে পরিণত করে ইনিংসে ফাইফার তুলে নেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন নাহিদ।
দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ, সিরিজ নিশ্চিতের মিশনে আগামী ১৬ মে দ্বিতীয় ও টেস্টে সিলেটে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে।
ঢাকা/এসএইচ
































