ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতায় অর্থমন্ত্রীর দ্বারস্থ ব্যাংকাররা
- আপডেট: ০২:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / ১০১৮৫ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট, আসন্ন জাতীয় বাজেট এবং খাতটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত, রাজস্ব ও কাঠামোগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বিএবি নেতারা ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান নানা সংকটের বিষয় অর্থমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তারা জানান, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে।
বিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকিং শিল্পের সার্বিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পুরো খাতের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে শিল্পায়ন, এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, ব্যাংকিং খাতকে কার্যকরভাবে পুনঃমূলধনীকরণ করতে হলে শক্তিশালী ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে বিভিন্ন খাতে সম্পদ ও শেয়ার গড়ে তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিএবি মনে করে, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা গেলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।
প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর ধারা ১৮কে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএবি। সংগঠনটির মতে, বিতর্কিত সাবেক উদ্যোক্তা বা বড় ঋণখেলাপিদের পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করবে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাজেট ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে বিএবি অর্থমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংকের কর্পোরেট কর হার কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা, পাঁচ বছরের জন্য ঋণ ক্ষতির বিপরীতে শতভাগ কর ছাড় সুবিধা, স্টক লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার এবং রাইট শেয়ার ও পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রম দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোকে এসএমই পুনঃঅর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন, এলটিটিএফসহ বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অব্যাহত প্রবেশাধিকার দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিএবি আরও প্রস্তাব করেছে, খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আর্থিক আদালত গঠন এবং বিপদগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি কেন্দ্রীয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠা করা হোক। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বাংলা কিউআর এবং ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী, শরীফ জহীর, মনজুরুর রহমান এবং রাশেদ আহমেদ চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে বিএবি জানায়, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
ঢাকা/এসএইচ




































