মালয়েশিয়া থেকেই চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট: ০৯:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৫ বার দেখা হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সেখান থেকেই সরাসরি চীন সফরে যাবেন তিনি। ২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্র জানায়, সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। চীনে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন।
সেখান থেকে ২৪ জুন বিকেলে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং যাবেন। ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে কোনো অ্যাগ্রিমেন্ট সই না হলেও ১৫টিরও বেশি এমওইউ সই হতে পারে। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একই দিন ঢাকায় ফিরবেন সরকারপ্রধান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম ভিভিআইপি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় অংশ, যা বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন।এদিকে, আগামী ২১ জুন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন সরকারপ্রধান। একই দিন বিকেলে মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে কয়েকটি এমইউ সই হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সহধর্মিণীসহ মালয়েশিয়া যাবেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। ঢাকা-কুয়ালালামপুর কূটনৈতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানায়, মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ কয়েকটি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। ২২ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
কুয়ালালামপুরের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানায়, ২২ জুন মালয়েশিয়ার সঙ্গে কালচারাল এমইউ সই, তথ্য ও সম্প্রচার সংক্রান্ত এমইউ, কাউন্টার টেরোরিজম সম্পর্কিত নোট অব এক্সচেঞ্জ, এফটিএ নেগোসিয়েশন সম্পর্কিত নোট অব এক্সচেঞ্জসহ আরও কয়েকটি নোট অব এক্সচেঞ্জ করা হতে পারে। মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসনসহ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই সরকারপ্রধান আলোচনা করবেন।
মালয়েশিয়া থেকেই কেন চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: পশ্চিমা দেশগুলোর চীন নিয়ে অস্বস্তিসহ আঞ্চলিক নানা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়েই বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়া সফর শেষ করেই ২২ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি চীন সফরে যাওয়া বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতির একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার সব দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাই চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেইজিংয়ের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানায়, ২২ জুন কুয়ালালামপুর থেকে চীনে যাবেন তিনি। ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি, উদ্ভাবন, টেকনোলজি এবং এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন। এখানে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকবেন। ফোরামের ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সাইড লাইন বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে ২৪ জুন বিকেলে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। একই সূত্র কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং যাবেন। সূত্রমতে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুদেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকও হবে বলে জানা গেছে। একই দিনে তিনি আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একই দিন ঢাকায় ফিরবেন সরকারপ্রধান।
চীনের সঙ্গে সই হবে ১৫টির বেশি এমইউ: প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বেইজিংয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র কালবেলাকে জানায়, চীনের সঙ্গে ঢাকার প্রায় ১৫টির বেশি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। উভয় দেশ এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক খসড়া বিনিময় করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো দ্রুত মতামত প্রদান ও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য কাজ করছে। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগিতাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এমওইউ সইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানায়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ ছাড়া চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ প্রচারের সহযোগিতা পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ থেকে চীনে উচ্চমানের পণ্য রপ্তানির যৌথ কর্মপরিকল্পনা, মুক্ত বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সমর্থনের জন্য সমঝোতা স্মারক, সবুজ উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, চীন ও বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কাঠামো চুক্তি, মংলা সুবিধা প্রকল্প, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতাসহ আরও কয়েকটি এমওইউ সই হতে পারে। যদিও অনেকগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, উভয় পক্ষই দ্রুত এসব সইয়ের প্রতিক্রিয়া করবে।
ঢাকা/আরএইচ







































