০৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা, ছাঁটাই প্রস্তাব ৩০৪টি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:৫০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৫ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলা এবং অপচয় রোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বাজেট পেশ করেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয় বলে জানান স্পিকার।

স্পিকার বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে এবং এসব দাবির বিপরীতে বেগম রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ প্রদান করেছেন। অনুপস্থিত সদস্যদের পক্ষে কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ নেই জানিয়ে স্পিকার সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দিষ্ট খাতগুলোতে তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানানো হবে এবং অন্যান্য দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা, ছাঁটাই প্রস্তাব ৩০৪টি

আপডেট: ০৬:৫০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলা এবং অপচয় রোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বাজেট পেশ করেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয় বলে জানান স্পিকার।

স্পিকার বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে এবং এসব দাবির বিপরীতে বেগম রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ প্রদান করেছেন। অনুপস্থিত সদস্যদের পক্ষে কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ নেই জানিয়ে স্পিকার সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দিষ্ট খাতগুলোতে তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানানো হবে এবং অন্যান্য দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।

ঢাকা/আরএইচ