১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

১৪ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কোনো টাকা ফেরত দেয়নি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২
  • / ১০৪৭৪ বার দেখা হয়েছে

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫২৫ কোটি টাকার মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কোনো টাকাই ফেরত দেয়নি। ১৩টি ফেরত দিয়েছে আংশিক টাকা। ফেরত না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইভ্যালি, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, টোয়েন্টিফোর টিকেটি, ই–অরেঞ্জ, উইকুম, আকাশ নীল, প্রিয় শপ, আলাদীনের প্রদীপ, আমার বাজার, আস্থার প্রতীক, বাড়ির দোকান ডটকম, নিরাপদ এবং ইনফিনিটি মার্কেটিং লিমিটেড।

এ পর্যন্ত ১৩ ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ফেরত পাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। আরও প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তবে কবে নাগাদ সবাই পুরো টাকা ফেরত পাবেন, তা অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, টাকা ফেরত চলমান প্রক্রিয়া। যেসব প্রতিষ্ঠান মামলায় জড়ানো এবং গত বছরের ৩০ জুনের আগে যাদের টাকা আটকে গেছে, সেগুলোর ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করার বাস্তবতা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে বেশি বেছে নেয় মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ ও সফটওয়্যার শপ লিমিটেডকে (এসএসএল)। তবে পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা আটকে ছিল ফস্টার করপোরেশনে। প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ৩৮২ কোটি টাকা। এ ছাড়া নগদে ২০ কোটি ৬৯ লাখ এবং এসএসএলে ৮৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আটকে ছিল। এ ছাড়া সূর্যমুখী লিমিটেডে ২৬ কোটি ২১ লাখ এবং বিকাশে ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা আটকে ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইভ্যালিতে আটকে থাকা গ্রাহকদের ২৬ কোটি টাকার মধ্যে বিকাশে প্রায় ৫ কোটি, নগদে ১৮ কোটি ও এসএসএলে ৩ কোটি রয়েছে। আর এসএসএলে আটকে আছে ই–অরেঞ্জের গ্রাহকদের ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

ব্যবসায় আসছে ইভ্যালি ও কিউকম: কিউকম গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তারা গ্রাহকদের ২২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। আরও ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়াধীন। তিন মাসের মধ্যে সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন উদ্যমে সুপার অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কেটপ্লেসের পাশাপাশি অনলাইনে দ্রুত খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিউফুড, গ্রোসারি শপ কিউমার্ট এবং লজিস্টিক ও পার্সেল ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান পিকমি এক্সপ্রেস নিয়েও কাজ করছে কিউকম। ফ্যাশন, ওষুধসহ আরও কিছু সেবা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নাগরিক সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ

এদিকে ৮ অক্টোবর এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ইভ্যালির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি ইভ্যালি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমা নাসরিন জানান, গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে এক বছর নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসা করতে চান। তিনি আশাবাদী যে এক বছর ব্যবসা করতে পারলে বিনিয়োগ পাবেন এবং তা থেকে সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব। ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন ক্যাম্পেইন শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ই–কমার্সবিষয়ক গবেষক সুবর্ণ বড়ুয়া বলেন, ‘টাকা ফেরত দেওয়া এবং নতুন করে ব্যবসায় ফিরে আসাকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। আগে থেকেই বলে আসছিলাম যে ব্যবসা করার সুযোগ তারা পেতে পারে। তবে আইনকানুন মেনে চলতে হবে।’

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

১৪ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কোনো টাকা ফেরত দেয়নি

আপডেট: ০১:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫২৫ কোটি টাকার মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কোনো টাকাই ফেরত দেয়নি। ১৩টি ফেরত দিয়েছে আংশিক টাকা। ফেরত না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইভ্যালি, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, টোয়েন্টিফোর টিকেটি, ই–অরেঞ্জ, উইকুম, আকাশ নীল, প্রিয় শপ, আলাদীনের প্রদীপ, আমার বাজার, আস্থার প্রতীক, বাড়ির দোকান ডটকম, নিরাপদ এবং ইনফিনিটি মার্কেটিং লিমিটেড।

এ পর্যন্ত ১৩ ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ফেরত পাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। আরও প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তবে কবে নাগাদ সবাই পুরো টাকা ফেরত পাবেন, তা অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, টাকা ফেরত চলমান প্রক্রিয়া। যেসব প্রতিষ্ঠান মামলায় জড়ানো এবং গত বছরের ৩০ জুনের আগে যাদের টাকা আটকে গেছে, সেগুলোর ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করার বাস্তবতা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে বেশি বেছে নেয় মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ ও সফটওয়্যার শপ লিমিটেডকে (এসএসএল)। তবে পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা আটকে ছিল ফস্টার করপোরেশনে। প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ৩৮২ কোটি টাকা। এ ছাড়া নগদে ২০ কোটি ৬৯ লাখ এবং এসএসএলে ৮৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আটকে ছিল। এ ছাড়া সূর্যমুখী লিমিটেডে ২৬ কোটি ২১ লাখ এবং বিকাশে ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা আটকে ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইভ্যালিতে আটকে থাকা গ্রাহকদের ২৬ কোটি টাকার মধ্যে বিকাশে প্রায় ৫ কোটি, নগদে ১৮ কোটি ও এসএসএলে ৩ কোটি রয়েছে। আর এসএসএলে আটকে আছে ই–অরেঞ্জের গ্রাহকদের ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

ব্যবসায় আসছে ইভ্যালি ও কিউকম: কিউকম গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তারা গ্রাহকদের ২২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। আরও ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়াধীন। তিন মাসের মধ্যে সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন উদ্যমে সুপার অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কেটপ্লেসের পাশাপাশি অনলাইনে দ্রুত খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিউফুড, গ্রোসারি শপ কিউমার্ট এবং লজিস্টিক ও পার্সেল ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান পিকমি এক্সপ্রেস নিয়েও কাজ করছে কিউকম। ফ্যাশন, ওষুধসহ আরও কিছু সেবা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নাগরিক সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ

এদিকে ৮ অক্টোবর এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ইভ্যালির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি ইভ্যালি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমা নাসরিন জানান, গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে এক বছর নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসা করতে চান। তিনি আশাবাদী যে এক বছর ব্যবসা করতে পারলে বিনিয়োগ পাবেন এবং তা থেকে সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব। ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন ক্যাম্পেইন শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ই–কমার্সবিষয়ক গবেষক সুবর্ণ বড়ুয়া বলেন, ‘টাকা ফেরত দেওয়া এবং নতুন করে ব্যবসায় ফিরে আসাকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। আগে থেকেই বলে আসছিলাম যে ব্যবসা করার সুযোগ তারা পেতে পারে। তবে আইনকানুন মেনে চলতে হবে।’

ঢাকা/এসএ