০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / ১০২৩২ বার দেখা হয়েছে

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধের তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ওই ব্যক্তির ফাঁসি রোববার কার্যকর করা হয় বলে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন বলেছে, মোশতবা কিয়ান নামের অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প শাখা সংশ্লিষ্ট তথ্য শত্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। রোববার ভোরে দেশের একটি কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ান প্রায় ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য পাচার করেছিলেন বলে খবর দিয়েছে মিজান অনলাইন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনও ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এটিই প্রথম।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান গুপ্তচরবৃত্তি বা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলানোর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে রোববারের আগে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের অপরাধের জন্য সাজা দেওয়া হয়েছিল।

মিজান অনলাইন বলেছে, কিয়ান ইহুদিবাদী আমেরিকান শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈরী নেটওয়ার্কগুলোতে একাধিক বার্তা পাঠিয়েছিলেন; যার মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করার কারখানার অবস্থান এবং তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে কোন কোন গণমাধ্যমের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি সেগুলোর নাম জানানো হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই বিদেশে অবস্থানরত ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ করে থাকে।

মিজান বলছে, কিয়ান ইরানের একটি স্থাপনার অবস্থানের তথ্য পাচার করার পর যুদ্ধ চলাকালে সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এবং সেখানে হামলা চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রোববার ভোরে ওই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

ইরানি এই সংবাদমাধ্যম বলেছে, কিয়ানকে গ্রেপ্তারের ৫০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।

সূত্র: এএফপি।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

আপডেট: ০৫:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধের তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ওই ব্যক্তির ফাঁসি রোববার কার্যকর করা হয় বলে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন বলেছে, মোশতবা কিয়ান নামের অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প শাখা সংশ্লিষ্ট তথ্য শত্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। রোববার ভোরে দেশের একটি কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ান প্রায় ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য পাচার করেছিলেন বলে খবর দিয়েছে মিজান অনলাইন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনও ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এটিই প্রথম।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান গুপ্তচরবৃত্তি বা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলানোর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে রোববারের আগে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের অপরাধের জন্য সাজা দেওয়া হয়েছিল।

মিজান অনলাইন বলেছে, কিয়ান ইহুদিবাদী আমেরিকান শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈরী নেটওয়ার্কগুলোতে একাধিক বার্তা পাঠিয়েছিলেন; যার মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করার কারখানার অবস্থান এবং তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে কোন কোন গণমাধ্যমের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি সেগুলোর নাম জানানো হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই বিদেশে অবস্থানরত ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ করে থাকে।

মিজান বলছে, কিয়ান ইরানের একটি স্থাপনার অবস্থানের তথ্য পাচার করার পর যুদ্ধ চলাকালে সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এবং সেখানে হামলা চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রোববার ভোরে ওই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

ইরানি এই সংবাদমাধ্যম বলেছে, কিয়ানকে গ্রেপ্তারের ৫০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।

সূত্র: এএফপি।

ঢাকা/এসএইচ