০৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আসছে: অর্থমন্ত্রী

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭১ বার দেখা হয়েছে

তরুণদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রাজনীতি সংবাদ সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এবারের বাজেটে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর অব্যাহতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দূর করা হয়েছে। পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেশে আনতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঝামেলা থাকবে না বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যেসব পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, তাদের বাংলাদেশে কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে পেপ্যালসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তরুণদের জন্য ডিজিটাল বিশ্বের সুযোগ সম্প্রসারণই সরকারের লক্ষ্য।

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাস্তব অর্থে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। দেশের বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রমকে রিয়েল-টাইম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে সরকারি অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন কমে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়।তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন বাড়লে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হবে এবং নাগরিক সেবা গ্রহণে হয়রানি কমবে। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও চলমান রয়েছে।

বাজেটের সামগ্রিক দর্শন তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে অল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, অতীতে অর্থনীতি একটি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন অর্থনৈতিক মডেলে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, বাউল, পালাগান ও থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।পুঁজিবাজার সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বড় বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ এবং সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আসছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট: ০৭:১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

তরুণদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রাজনীতি সংবাদ সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এবারের বাজেটে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর অব্যাহতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দূর করা হয়েছে। পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেশে আনতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঝামেলা থাকবে না বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যেসব পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, তাদের বাংলাদেশে কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে পেপ্যালসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তরুণদের জন্য ডিজিটাল বিশ্বের সুযোগ সম্প্রসারণই সরকারের লক্ষ্য।

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাস্তব অর্থে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। দেশের বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রমকে রিয়েল-টাইম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে সরকারি অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন কমে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়।তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন বাড়লে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হবে এবং নাগরিক সেবা গ্রহণে হয়রানি কমবে। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও চলমান রয়েছে।

বাজেটের সামগ্রিক দর্শন তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে অল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, অতীতে অর্থনীতি একটি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন অর্থনৈতিক মডেলে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, বাউল, পালাগান ও থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।পুঁজিবাজার সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বড় বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ এবং সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/আরএইচ