০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইভিটেক্স ফ্যাশন একত্রীকরণের সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ: হাইকোর্ট

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২
  • / ১০৩৯৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইভিটেক্স ফ্যাশনের সাথে একীভূতকরণের বিষয়ে কোম্পানি দুটির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কোম্পানি দুটির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করার রহমান রহমান হক অডিট ফার্মকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ইভিন্স টেক্সটাইল ২০১৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি অপারেটিং খরচ কমাতে ইভিটেক্স ফ্যাশনের সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটিকে একীভূতকরণের বিরোধিতা করেছে। কোম্পানিটি সম্পদ অতিবৃদ্ধি করেছে এবং শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়েছে। ফলে হাইকোর্ট রহমান রহমান হক অডিট ফার্মের মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইভিন্স টেক্সটাইলের প্রধান ব্যবসা হল ১০০ ভাগ তুলায় তৈরি কাপড় উৎপাদন করা, রং করা এবং ফিনিশিং করা এবং বিদেশে রপ্তানি করা। একীভূত হওয়ার প্রস্তাবের পর কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫.১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ টাকা ১০ টাকা হয়েছে।

কোম্পানির একজন কর্মকর্তা একীভূতীকরণের বিষয়ে বলেছেন, কোম্পানিটির একীভূতকরণ পরিচালনার ব্যয় এবং কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে সহায়তা করবে এবং অ্যাকাউন্টিংও সহজ হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত একীভূতকরণটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের উপর অবৈধ লাভের জন্য ছিল।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অডিট ফার্ম বাংলাদেশের আইন, নিয়ম ও অনুশীলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড মেনে কোম্পানির অডিট করবে।

যেহেতু ইভিটেক্স ফ্যাশন-এর কোনো বাজারমূল্য নেই, তাই কোম্পানিটির ক্যাশ, স্টক, সম্পত্তি এবং সম্পদের অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য নিরীক্ষক কোম্পানি বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করবে।

ইভিটেক্স ফ্যাশন এর শেয়ারের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য অডিট ফার্ম কোম্পানিটির সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে।

ইভিটেক্স ফ্যাশনস ১১ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে একটি বেসরকারী কোম্পানি হিসাবে ৮.৮০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এটি ২০০৫ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এবং এর কারখানা গাজীপুরে অবস্থিত।

ইভিন্স টেক্সটাইল ইভিটেক্স ফ্যাশনের ৯৫ শতাংশ মালিক। বাকি ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, পরিচালক শবনম শেহনাজ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু কাওসার মজুমদার, পরিচালক একে গওহর রব্বানী এবং ইভিন্স টেক্সটাইলের আখতার শহীদ।

২০২০-২১ অর্থবছরে ইভিটেক্স ফ্যাশনস ১৯.২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান ছিল ২.৬৮ কোটি টাকা।

ইভিন্স টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০২১ শেষ হওয়া আর্থিক বছরের জন্য ২% ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছে।

সে বছর কোম্পানিটির টার্নওভার ছিল ১৪২.৪৫ কোটি টাকা। যেখানে নিট লাভ ছিল মাত্র ২.৫৭ কোটি টাকা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিতে ৩৬.৬৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২৩.২৭ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৪০.০৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির সর্বশেষ শেয়ার লেনদেনের ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

ইভিটেক্স ফ্যাশন একত্রীকরণের সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ: হাইকোর্ট

আপডেট: ০৭:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইভিটেক্স ফ্যাশনের সাথে একীভূতকরণের বিষয়ে কোম্পানি দুটির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কোম্পানি দুটির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করার রহমান রহমান হক অডিট ফার্মকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ইভিন্স টেক্সটাইল ২০১৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি অপারেটিং খরচ কমাতে ইভিটেক্স ফ্যাশনের সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটিকে একীভূতকরণের বিরোধিতা করেছে। কোম্পানিটি সম্পদ অতিবৃদ্ধি করেছে এবং শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়েছে। ফলে হাইকোর্ট রহমান রহমান হক অডিট ফার্মের মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইভিন্স টেক্সটাইলের প্রধান ব্যবসা হল ১০০ ভাগ তুলায় তৈরি কাপড় উৎপাদন করা, রং করা এবং ফিনিশিং করা এবং বিদেশে রপ্তানি করা। একীভূত হওয়ার প্রস্তাবের পর কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫.১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ টাকা ১০ টাকা হয়েছে।

কোম্পানির একজন কর্মকর্তা একীভূতীকরণের বিষয়ে বলেছেন, কোম্পানিটির একীভূতকরণ পরিচালনার ব্যয় এবং কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে সহায়তা করবে এবং অ্যাকাউন্টিংও সহজ হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত একীভূতকরণটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের উপর অবৈধ লাভের জন্য ছিল।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অডিট ফার্ম বাংলাদেশের আইন, নিয়ম ও অনুশীলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড মেনে কোম্পানির অডিট করবে।

যেহেতু ইভিটেক্স ফ্যাশন-এর কোনো বাজারমূল্য নেই, তাই কোম্পানিটির ক্যাশ, স্টক, সম্পত্তি এবং সম্পদের অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য নিরীক্ষক কোম্পানি বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করবে।

ইভিটেক্স ফ্যাশন এর শেয়ারের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য অডিট ফার্ম কোম্পানিটির সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে।

ইভিটেক্স ফ্যাশনস ১১ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে একটি বেসরকারী কোম্পানি হিসাবে ৮.৮০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এটি ২০০৫ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এবং এর কারখানা গাজীপুরে অবস্থিত।

ইভিন্স টেক্সটাইল ইভিটেক্স ফ্যাশনের ৯৫ শতাংশ মালিক। বাকি ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, পরিচালক শবনম শেহনাজ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু কাওসার মজুমদার, পরিচালক একে গওহর রব্বানী এবং ইভিন্স টেক্সটাইলের আখতার শহীদ।

২০২০-২১ অর্থবছরে ইভিটেক্স ফ্যাশনস ১৯.২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান ছিল ২.৬৮ কোটি টাকা।

ইভিন্স টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০২১ শেষ হওয়া আর্থিক বছরের জন্য ২% ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছে।

সে বছর কোম্পানিটির টার্নওভার ছিল ১৪২.৪৫ কোটি টাকা। যেখানে নিট লাভ ছিল মাত্র ২.৫৭ কোটি টাকা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিতে ৩৬.৬৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২৩.২৭ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৪০.০৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির সর্বশেষ শেয়ার লেনদেনের ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।

ঢাকা/টিএ