১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২
  • / ১০৩৯৫ বার দেখা হয়েছে
ন্যাশনাল ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ৩ মে ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকটির জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার ঋণ আদায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়। এর ফলে ব্যাংকটি কিছুদিন ভালো ছিল। কয়েকটি বড় গ্রুপের চাপে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সেই নির্দেশনা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আবার একই অবস্থায় ফিরে যায় ব্যাংকটি। এ কারণে বৃহস্পতিবার নতুন করে আবার বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ গ্রাহকের মধ্যে অন্যতম হলো মায়শা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সাদ মুসা, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, এফএমসি ডকইয়ার্ড, প্রাণ-আরএফএল, ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল, ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট। ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল হলো একটি গ্রুপের বেনামি ঋণ। আর আগে এস আলম গ্রুপ ছিল শীর্ষ ঋণগ্রহীতা। এস আলম গ্রুপের সব সুদ মওকুফ করায় আসল টাকা ফেরত দিয়েছে গ্রুপটি।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঋণ কার্যক্রম খুলে দেওয়ার পর ব্যাংকটি ফু-ওয়াং সিরামিক ও এসএস স্টিলকে ৮০০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। এই প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সালেহ স্টিলকে দেড় শ কোটি টাকা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ প্রস্তাব আটকে দেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকটির একজন পরিচালকের সখ্য রয়েছে। এ কারণে অল্প সময়ে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ব্যাংকটিকে সতর্ক করে। ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডেকে সভা করে। এরপরও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ঋণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, ব্যাংকের শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ঋণ আদায়ের তথ্য প্রতি মাসে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের উপদেষ্টা, পরামর্শকসহ এমডির দুই পদ নিচে কারও পুনর্নিয়োগ অথবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

 

বেনামি ঋণ ঠেকাতে গত বছরের ৩ মে ঋণ বন্ধের পাশাপাশি সব মিলিয়ে ছয় ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। ফলে আমানত সংগ্রহ, ঋণ আদায় ছাড়া ব্যাংকটির আর কোনো কার্যক্রম ছিল না। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত পায় ব্যাংকটি। ফলে ব্যাংকটির আমানত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

গত এপ্রিল শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ও ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি ৩৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নানা ছাড় নিতে হয়। এই কারণে গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি ব্যাংকটি। অথচ ন্যাশনাল ব্যাংক একসময় দেশের পুরো ব্যাংক খাতের শীর্ষ তিন মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের একটি ছিল।

২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদেরও বদল হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের। ব্যাংকটির কর্তৃত্ব তখনই চলে যায় সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের কাছে। এর পর থেকেই প্রথম প্রজন্মের এ ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট: ১২:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২
ন্যাশনাল ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ৩ মে ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকটির জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার ঋণ আদায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়। এর ফলে ব্যাংকটি কিছুদিন ভালো ছিল। কয়েকটি বড় গ্রুপের চাপে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সেই নির্দেশনা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আবার একই অবস্থায় ফিরে যায় ব্যাংকটি। এ কারণে বৃহস্পতিবার নতুন করে আবার বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ গ্রাহকের মধ্যে অন্যতম হলো মায়শা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সাদ মুসা, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, এফএমসি ডকইয়ার্ড, প্রাণ-আরএফএল, ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল, ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট। ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল হলো একটি গ্রুপের বেনামি ঋণ। আর আগে এস আলম গ্রুপ ছিল শীর্ষ ঋণগ্রহীতা। এস আলম গ্রুপের সব সুদ মওকুফ করায় আসল টাকা ফেরত দিয়েছে গ্রুপটি।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঋণ কার্যক্রম খুলে দেওয়ার পর ব্যাংকটি ফু-ওয়াং সিরামিক ও এসএস স্টিলকে ৮০০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। এই প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সালেহ স্টিলকে দেড় শ কোটি টাকা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ প্রস্তাব আটকে দেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকটির একজন পরিচালকের সখ্য রয়েছে। এ কারণে অল্প সময়ে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ব্যাংকটিকে সতর্ক করে। ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডেকে সভা করে। এরপরও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ঋণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, ব্যাংকের শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ঋণ আদায়ের তথ্য প্রতি মাসে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের উপদেষ্টা, পরামর্শকসহ এমডির দুই পদ নিচে কারও পুনর্নিয়োগ অথবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

 

বেনামি ঋণ ঠেকাতে গত বছরের ৩ মে ঋণ বন্ধের পাশাপাশি সব মিলিয়ে ছয় ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। ফলে আমানত সংগ্রহ, ঋণ আদায় ছাড়া ব্যাংকটির আর কোনো কার্যক্রম ছিল না। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত পায় ব্যাংকটি। ফলে ব্যাংকটির আমানত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

গত এপ্রিল শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ও ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি ৩৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নানা ছাড় নিতে হয়। এই কারণে গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি ব্যাংকটি। অথচ ন্যাশনাল ব্যাংক একসময় দেশের পুরো ব্যাংক খাতের শীর্ষ তিন মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের একটি ছিল।

২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদেরও বদল হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের। ব্যাংকটির কর্তৃত্ব তখনই চলে যায় সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের কাছে। এর পর থেকেই প্রথম প্রজন্মের এ ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার।

ঢাকা/টিএ