০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর: স্বস্তি ফিরবে কক্সবাজারে?

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১১:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০
  • / ১০৪১৫ বার দেখা হয়েছে

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের উপর চাপ কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান তাদের।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি স্থানীয় মানুষের বসবাস। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর এই দুই উপজেলায় বসবাস করছে মিয়ানমার থেকে আসা বাড়তি ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। যে কারণে উজাড় হয়েছে বন, পাহাড় ও কৃষি জমি। একই সঙ্গে গত তিন বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাই স্থানীয়দের উপর চাপ কমাতে সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। গত চার ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় রাজি হওয়ায় ১৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করে সরকার।

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এতে কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের উপর চাপ কমবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান তাদের।

উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করব সরকার ও বিশ্বনেতারা মিলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করবে। 

আর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানালেন, কোনো রকম চাপ নয়, শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় যারা যেতে রাজি তাদেরকেই ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানে তারা নান্দনিক পরিবেশে তারা জীবনযাপন করবে। ইতোমধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছায় সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তাদের জন্য প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের কারণে উজাড় হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় সাত হাজার একর বনভূমি ও স্থানীয়দের একশ একরের বেশি কৃষি জমি। কাটা হয়েছে চারশ কোটি টাকার গাছ।

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর: স্বস্তি ফিরবে কক্সবাজারে?

আপডেট: ১১:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের উপর চাপ কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান তাদের।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি স্থানীয় মানুষের বসবাস। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর এই দুই উপজেলায় বসবাস করছে মিয়ানমার থেকে আসা বাড়তি ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। যে কারণে উজাড় হয়েছে বন, পাহাড় ও কৃষি জমি। একই সঙ্গে গত তিন বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাই স্থানীয়দের উপর চাপ কমাতে সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। গত চার ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় রাজি হওয়ায় ১৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করে সরকার।

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এতে কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের উপর চাপ কমবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান তাদের।

উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করব সরকার ও বিশ্বনেতারা মিলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করবে। 

আর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানালেন, কোনো রকম চাপ নয়, শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় যারা যেতে রাজি তাদেরকেই ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানে তারা নান্দনিক পরিবেশে তারা জীবনযাপন করবে। ইতোমধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছায় সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তাদের জন্য প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের কারণে উজাড় হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় সাত হাজার একর বনভূমি ও স্থানীয়দের একশ একরের বেশি কৃষি জমি। কাটা হয়েছে চারশ কোটি টাকার গাছ।