মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পোশাক রপ্তানিতে
- আপডেট: ১১:১৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / ১০১৭১ বার দেখা হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অভিঘাতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির ঘাটতিতে শিল্প খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প চাপে পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গেছে বেড়ে। এর মধ্যে গত ৬ জুন বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানার প্রায় এক হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। অবশ্য এই খাত আগে থেকেই সংকটে আছে।
গত মে মাসে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকত। চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। উৎপাদন চালিয়ে যেতে অনেক কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভের আবিল বিন আমিন বলেন, এই শিল্প দক্ষতানির্ভর, সেখানে জেনারেটর চালু করতেই যদি ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে– এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
উৎপাদনে বিলম্ব, জাহাজীকরণে বিঘ্ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতাদের কম চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নকিব বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর কারখানার ক্রয়াদেশ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১০ মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে। বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে ৮ শতাংশ।
সংকটগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর বড় অংশই বরাদ্দ দেওয়া হয় পোশাক খাতের জন্য। তবে এই ঋণের সুদহার প্রায় ৭ শতাংশ। উদ্যোক্তারা এমনিতে চাপে আছেন, তাদের জন্য এটা কঠিন। এদিকে কভিড মহামারির সময় উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বড় ব্র্যান্ডগুলো পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা/এনআই




































