০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
নড়বড়ে অর্থনীতি, আসছে বাজেট

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই মূল চ্যালেঞ্জ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০১৭৪ বার দেখা হয়েছে

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না নামা এবং উৎপাদন প্রত্যাশা মতো না বাড়ায় আসন্ন বাজেট ঘিরে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও।

এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। বাজেটে দরিদ্র মানুষকে স্বস্তি দিতে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে নতুন সরকার। গুরুত্ব পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। একইসাথে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও থাকবে বাড়তি গুরুত্ব।

এদিকে, আগের বছরের ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়ন বেড়েছে ৪ শতাংশ। তবে, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি, ঋণ পরিশোধসহ পরিচালন খাতেই অর্থ বেশি ব্যয় হয়েছে।

আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর, এই ছয় মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধে যাচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন,’মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিষ্পেষিত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে যদি আকৃষ্ট করা না যায় তাহলে উৎপাদন বাড়বে না, প্রবৃদ্ধি বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না।

বাজেটে গুরুত্ব পাবে নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। গুরুত্ব থাকবে ১ কোটি কর্মসংস্থান, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি তৈরি এবং ফ্যামেলি, হেলথ ও কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়। এক কোটির অর্ধেকও যদি হয়, তাহলে কিন্তু বিনিয়োগটা বাড়তে হবে। আর বিনিয়োগটা হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেতে গেলে কিন্তু আমাদের প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে প্রায় ৮ শতাংশ, মানে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। এই মূহুর্তে আছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

যদিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে নেই তেমন সুখবর। অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিক নির্দেশনা দরকার।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বললেন, আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন, কোনোটিই কিন্তু সফলতা আসবে না।

ড. মাহফুজ কবীর বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের জন্য যে ধরনের রাজস্ব বোর্ড প্রয়োজন, যেটা আসলে দুইভাগ করে দেওয়া হলো এবং আমরা অস্থিরতা দেখতে পেলাম, এখনো পর্যন্ত পুনর্গঠনের কাজ কিন্তু কিছুই হয়নি। তো সেগুলো করে আসলে পুরো বাজেটটা তৈরি করা এবং বাস্তবায়ন করা; সেগুলো কিন্তু  অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

নড়বড়ে অর্থনীতি, আসছে বাজেট

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই মূল চ্যালেঞ্জ

আপডেট: ০৫:১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না নামা এবং উৎপাদন প্রত্যাশা মতো না বাড়ায় আসন্ন বাজেট ঘিরে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও।

এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। বাজেটে দরিদ্র মানুষকে স্বস্তি দিতে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে নতুন সরকার। গুরুত্ব পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। একইসাথে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও থাকবে বাড়তি গুরুত্ব।

এদিকে, আগের বছরের ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়ন বেড়েছে ৪ শতাংশ। তবে, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি, ঋণ পরিশোধসহ পরিচালন খাতেই অর্থ বেশি ব্যয় হয়েছে।

আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর, এই ছয় মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধে যাচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন,’মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিষ্পেষিত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে যদি আকৃষ্ট করা না যায় তাহলে উৎপাদন বাড়বে না, প্রবৃদ্ধি বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না।

বাজেটে গুরুত্ব পাবে নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। গুরুত্ব থাকবে ১ কোটি কর্মসংস্থান, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি তৈরি এবং ফ্যামেলি, হেলথ ও কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়। এক কোটির অর্ধেকও যদি হয়, তাহলে কিন্তু বিনিয়োগটা বাড়তে হবে। আর বিনিয়োগটা হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেতে গেলে কিন্তু আমাদের প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে প্রায় ৮ শতাংশ, মানে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। এই মূহুর্তে আছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

যদিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে নেই তেমন সুখবর। অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিক নির্দেশনা দরকার।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বললেন, আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন, কোনোটিই কিন্তু সফলতা আসবে না।

ড. মাহফুজ কবীর বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের জন্য যে ধরনের রাজস্ব বোর্ড প্রয়োজন, যেটা আসলে দুইভাগ করে দেওয়া হলো এবং আমরা অস্থিরতা দেখতে পেলাম, এখনো পর্যন্ত পুনর্গঠনের কাজ কিন্তু কিছুই হয়নি। তো সেগুলো করে আসলে পুরো বাজেটটা তৈরি করা এবং বাস্তবায়ন করা; সেগুলো কিন্তু  অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা/এসএইচ