০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সমন্বয়হীনতায় দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুতে দেরি হচ্ছে: সিএসই এমডি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ১০২৪৪ বার দেখা হয়েছে

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কয়েকটি কারণে বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।

তিনি বলেন, সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এখন থেকে দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তন এবং বারবার নীতির পরিবর্তনের কারণে এটি চালু করতে দেরি হচ্ছে।

রোববার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ : সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএমজেএফ এবং সিএসইর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস বিশ্বব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেটের পণ্য। এটি বাংলাদেশে ২০২৩ সালে শুরুর কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের দেশে নতুন ধারণা, তাই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য দেরি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু আছে। ভারতে তারও আগে থেকে চালু আছে। আমাদের দেশে দেরিতে চালু হওয়ার কারণ হলো, এটি নিয়ে অনেক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় ছিল, যেটি আমরা করছি। যদিও আমাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী দেড়-দুই বছর আগে এটি চালু করার সুযোগ ছিল। রেগুলেটরি বডির সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কিছু কারণে এটি আসতে দেরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের টেকনোলজির সক্ষমতা এখনো ৬০ শতাংশের বেশি বহির্বিশ্বনির্ভর। আমাদের কমোডিটিজের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিসও দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এতে কিছুটা দেরি হয়েছে। রুলস অনুযায়ী কমোডিটিজ মার্কেটের জন্য আলাদা ব্রোকার তৈরি করতে হয়েছে। এজন্যও দেরি হয়েছে। সব শেষ করেও এটি দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল, যেটি সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে কিছু নীতির কারণে আমাদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে দেরি হচ্ছে। এখন আমাদের প্রস্তুতি অনেক এগিয়ে গেছে। আশা করছি এটি চলতি বছরের মধ্যে হয়তো চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে এখন পর্যন্ত আমাদের ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এটিকে শুরু করতে আরও কিছু টাকা ব্যয় হবে। আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে। আমাদের টিমও বিদেশ থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন এবং টেকনোলজিসও প্রস্তুত রয়েছে।

সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোনো পণ্য বেচাবিক্রির প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সেটেলমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা ক্যাশ সেটেলমেন্ট দিয়ে শুরু করব। ফিজিক্যাল ডেলিভারি আপাতত শুরু করব না। এটির জন্য আমাদের আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। যেটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করার সুযোগ থাকবে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

সমন্বয়হীনতায় দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুতে দেরি হচ্ছে: সিএসই এমডি

আপডেট: ০১:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কয়েকটি কারণে বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।

তিনি বলেন, সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এখন থেকে দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তন এবং বারবার নীতির পরিবর্তনের কারণে এটি চালু করতে দেরি হচ্ছে।

রোববার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ : সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএমজেএফ এবং সিএসইর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস বিশ্বব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেটের পণ্য। এটি বাংলাদেশে ২০২৩ সালে শুরুর কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের দেশে নতুন ধারণা, তাই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য দেরি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু আছে। ভারতে তারও আগে থেকে চালু আছে। আমাদের দেশে দেরিতে চালু হওয়ার কারণ হলো, এটি নিয়ে অনেক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় ছিল, যেটি আমরা করছি। যদিও আমাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী দেড়-দুই বছর আগে এটি চালু করার সুযোগ ছিল। রেগুলেটরি বডির সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কিছু কারণে এটি আসতে দেরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের টেকনোলজির সক্ষমতা এখনো ৬০ শতাংশের বেশি বহির্বিশ্বনির্ভর। আমাদের কমোডিটিজের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিসও দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এতে কিছুটা দেরি হয়েছে। রুলস অনুযায়ী কমোডিটিজ মার্কেটের জন্য আলাদা ব্রোকার তৈরি করতে হয়েছে। এজন্যও দেরি হয়েছে। সব শেষ করেও এটি দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল, যেটি সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে কিছু নীতির কারণে আমাদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে দেরি হচ্ছে। এখন আমাদের প্রস্তুতি অনেক এগিয়ে গেছে। আশা করছি এটি চলতি বছরের মধ্যে হয়তো চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে এখন পর্যন্ত আমাদের ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এটিকে শুরু করতে আরও কিছু টাকা ব্যয় হবে। আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে। আমাদের টিমও বিদেশ থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন এবং টেকনোলজিসও প্রস্তুত রয়েছে।

সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোনো পণ্য বেচাবিক্রির প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সেটেলমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা ক্যাশ সেটেলমেন্ট দিয়ে শুরু করব। ফিজিক্যাল ডেলিভারি আপাতত শুরু করব না। এটির জন্য আমাদের আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। যেটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করার সুযোগ থাকবে।

ঢাকা/এসএইচ