ডিজে সঞ্জয়: মৌলভীবাজার থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে
- আপডেট: ০৬:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৯ বার দেখা হয়েছে
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপনও করেছেন সঞ্জয়। পোশাকের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। তার জামার স্লিভে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল এবং লাল সবুজে ছিল বাংলাদেশের পতাকার উপস্থাপন।ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ খুব কমই আছে। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ একরকম মুখিয়ে থাকেন চার বছর পর পর এ আসর দেখার জন্য। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুধু ক্রীড়া বিশ্বের নয়, বিশ্বসংস্কৃতিরও অন্যতম বড় মঞ্চ। এখানে কোটি দর্শকের সামনে নিজেদের শিল্প-সত্তার প্রকাশ ঘটান বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। সেই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয় দেব। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে তিনি বিশ্বদরবারে নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বাংলাদেশের নাম।
১৯৯১ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জন্ম সঞ্জয়ের। শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে চট্টগ্রামে। পরে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। ফলে ভিন্ন দুই সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। সঞ্জয়ে শিল্পীজীবনে এ অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা। বাংলাদেশের শিকড় এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক সংগীতধারার মিশেলে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সংগীতভুবন।
সঞ্জয়ের সংগীতপ্রেমের শুরু পরিবার থেকে। কৈশোরে এসে আকৃষ্ট হন ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক বা ইডিএমের প্রতি। নিজের ঘরে বসেই শুরু করেন সুর নির্মাণ, রিমিক্স এবং নতুন ধরনের সংগীত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ধীরে ধীরে তার কাজ শ্রোতাদের নজর কাড়তে শুরু করে। দক্ষিণ এশীয় সুর, লোকজ সংগীতের আবহ এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক বিটকে একসঙ্গে মিশিয়ে তিনি তৈরি করেন এক স্বতন্ত্র সংগীতধারা। এ মৌলিকতাই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান।
সঞ্জয়ের ‘শাংগ্রি-লা’ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিউজিক চার্টে স্থান পেয়েছিল। ২০১৭ সালে প্রকাশ করেছিলেন একটি অ্যালবাম। আমেরিকান আইডলের শিল্পী এলিয়ট ইয়ামিন ছিলেন তার সঙ্গে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড গটসেভেন-এর মার্ক টুয়ানের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন ‘ওয়ান ইন এ মিলিয়ন’। ভারতীয় শিল্পী গুরু রন্ধাভার সঙ্গেও একটি অ্যালবাম করেছেন তিনি।
পরিবর্তন ও ফিউশন সঞ্জয়ের বৈশিষ্ট্য। বিশ্বসংগীতের দ্রুত পরিবর্তনশীল ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজেকে ক্রমাগত নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইলেকট্রনিক সংগীতের পাশাপাশি পপ, বিশ্বসংগীত এবং দক্ষিণ এশীয় সুরের মেলবন্ধন তার কাজকে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি। অবশেষে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বকাপ ফুটবলের অ্যালবামে।২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে প্রকাশিত অফিসিয়াল সংগীত প্রকল্পে সঞ্জয়ের অংশগ্রহণ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। ‘SIIR SIIR’ শিরোনামের গানে তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলেন।
এখানেই শেষ না। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপনও করেছেন তিনি। পোশাকের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। তার জামার স্লিভে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল এবং লাল সবুজে ছিল বাংলাদেশের পতাকার উপস্থাপন।এদিকে নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, একজন অভিবাসীর সন্তান হিসেবে নিজের ঘরের স্টুডিও থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি সেই সব তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা দুই সংস্কৃতির মাঝে বেড়ে উঠেও নিজেদের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাখে। আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমার শেকড়কে প্রতিনিধিত্ব করছি।
সঞ্জয় দেবের সাফল্যের গল্প কেবল একজন সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়। এটি অভিবাসী প্রজন্মের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্পও বটে। শ্রীমঙ্গলের এক শিশু থেকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চের শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রা প্রমাণ করে, প্রতিভা ও অধ্যবসায় থাকলে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছনো অসম্ভব নয়।
ঢাকা/আরএইচ



































