০৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

স্পেসএক্সের রেকর্ডভাঙা অভিষেক পুঁজিবাজারে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৮ বার দেখা হয়েছে

শুক্রবার ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি স্পেসএক্সের রেকর্ডভাঙা অভিষেক হয় পুঁজিবাজারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক।ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার। তিনি অনেক দিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফরাসি বিলাসপণ্যের গ্রুপ এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্টের মতো ধনকুবেরদের আরও ছাড়িয়ে গেছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে প্রযুক্তিজগতে প্রথম আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাস্ক। তবে তিনি সব সময় ধনীদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন না।তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত ছয় বছরে উল্কার গতিতে ইলন মাস্কের উত্থান হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে তার সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩৮ গুণ।

ওই বছর থেকেই তার সম্পদ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্য দ্রুত বাড়তে থাকে। দুটি প্রতিষ্ঠানেই মাস্কের বড় অংশীদারত্ব রয়েছে।টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা, স্পেসএক্সের বাড়তি মূল্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে তার চলার পথ বেশ নাটকীয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির খেতাব পান ইলন মাস্ক। সে সময় তিনি ক্ষণিকের জন্য জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থানের উত্থান-পতন হয়েছে।

মাস্ক যখন প্রথম বিশ্বের শীর্ষ ধনী হন, তখন তার সম্পদমূল্য ছিল ১৯৫ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। একই বছরের নভেম্বরে টেসলার শেয়ারদর বাড়ায় তার সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪০ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার কোটি ডলার।পরবর্তী সময়ে মাস্কের সম্পদমূল্য কমে যায়। ২০২২ সালের অক্টোবরে টুইটার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সময় তার সম্পদমূল্য ছিল ২০৪ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদমূল্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে যায়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ২৬৪ বিলিয়ন বা ২৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার সময় তার সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৩৮৭ বিলিয়ন বা ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাজারে আসার খবর প্রকাশিত হলে মাস্কের সম্পদমূল্য বেড়ে ৬৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স ও এক্সএআই একীভূত হওয়ার সময় তার সম্পদমূল্য ছিল ৬৭০ বিলিয়ন বা ৬৭ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার পর তার সম্পদমূল্য উল্কার গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহামারির সময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উত্থানের সুফল পেয়েছেন মাস্ক। তবে ২০২২ সালে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমে গেলে তার সম্পদমূল্যেও ভাটা পড়ে। আবার ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনে তার ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় টেসলার শেয়ারদর কমে যায় এবং সম্পদমূল্যও হ্রাস পায়।

তবে প্রতিবারই আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছেন মাস্ক। বর্তমানে ট্রিলিয়নিয়ার এই উদ্যোক্তা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজের তুলনায় প্রায় চার গুণ এবং মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি সম্পদের মালিক।

তবে মাস্কের সম্পদের বড় অংশই শেয়ারভিত্তিক। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে এর মূল্য ওঠানামা করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি বলেন, তার নিট সম্পদের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম নগদ অর্থ হিসেবে রয়েছে।বর্তমানে টেসলায় মাস্কের অংশীদারত্ব ১২ শতাংশ এবং স্পেসএক্সে ৪২ শতাংশ। তার অনেক শেয়ার ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে। নগদের পরিবর্তে কাগজে-কলমে সম্পদের ওপর এমন নির্ভরতা একধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে।

এ ছাড়া টানেল নির্মাণকারী দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও তার অংশীদারত্ব রয়েছে।ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা একসময় আর্থিক ও শিল্প খাতে সম্পদ গড়েছেন। তবে বর্তমানে চিত্রটি ভিন্ন। ২০১৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে মাত্র দুজন প্রযুক্তিখাতের ছিলেন। এখন সেই সংখ্যা সাত এবং শীর্ষ ছয়জনই প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

স্পেসএক্সের রেকর্ডভাঙা অভিষেক পুঁজিবাজারে

আপডেট: ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শুক্রবার ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি স্পেসএক্সের রেকর্ডভাঙা অভিষেক হয় পুঁজিবাজারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক।ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার। তিনি অনেক দিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফরাসি বিলাসপণ্যের গ্রুপ এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্টের মতো ধনকুবেরদের আরও ছাড়িয়ে গেছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে প্রযুক্তিজগতে প্রথম আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাস্ক। তবে তিনি সব সময় ধনীদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন না।তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত ছয় বছরে উল্কার গতিতে ইলন মাস্কের উত্থান হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে তার সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩৮ গুণ।

ওই বছর থেকেই তার সম্পদ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্য দ্রুত বাড়তে থাকে। দুটি প্রতিষ্ঠানেই মাস্কের বড় অংশীদারত্ব রয়েছে।টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা, স্পেসএক্সের বাড়তি মূল্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে তার চলার পথ বেশ নাটকীয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির খেতাব পান ইলন মাস্ক। সে সময় তিনি ক্ষণিকের জন্য জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থানের উত্থান-পতন হয়েছে।

মাস্ক যখন প্রথম বিশ্বের শীর্ষ ধনী হন, তখন তার সম্পদমূল্য ছিল ১৯৫ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। একই বছরের নভেম্বরে টেসলার শেয়ারদর বাড়ায় তার সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪০ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার কোটি ডলার।পরবর্তী সময়ে মাস্কের সম্পদমূল্য কমে যায়। ২০২২ সালের অক্টোবরে টুইটার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সময় তার সম্পদমূল্য ছিল ২০৪ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদমূল্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে যায়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ২৬৪ বিলিয়ন বা ২৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার সময় তার সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৩৮৭ বিলিয়ন বা ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাজারে আসার খবর প্রকাশিত হলে মাস্কের সম্পদমূল্য বেড়ে ৬৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স ও এক্সএআই একীভূত হওয়ার সময় তার সম্পদমূল্য ছিল ৬৭০ বিলিয়ন বা ৬৭ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার পর তার সম্পদমূল্য উল্কার গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহামারির সময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উত্থানের সুফল পেয়েছেন মাস্ক। তবে ২০২২ সালে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমে গেলে তার সম্পদমূল্যেও ভাটা পড়ে। আবার ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনে তার ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় টেসলার শেয়ারদর কমে যায় এবং সম্পদমূল্যও হ্রাস পায়।

তবে প্রতিবারই আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছেন মাস্ক। বর্তমানে ট্রিলিয়নিয়ার এই উদ্যোক্তা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজের তুলনায় প্রায় চার গুণ এবং মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি সম্পদের মালিক।

তবে মাস্কের সম্পদের বড় অংশই শেয়ারভিত্তিক। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে এর মূল্য ওঠানামা করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি বলেন, তার নিট সম্পদের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম নগদ অর্থ হিসেবে রয়েছে।বর্তমানে টেসলায় মাস্কের অংশীদারত্ব ১২ শতাংশ এবং স্পেসএক্সে ৪২ শতাংশ। তার অনেক শেয়ার ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে। নগদের পরিবর্তে কাগজে-কলমে সম্পদের ওপর এমন নির্ভরতা একধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে।

এ ছাড়া টানেল নির্মাণকারী দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও তার অংশীদারত্ব রয়েছে।ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা একসময় আর্থিক ও শিল্প খাতে সম্পদ গড়েছেন। তবে বর্তমানে চিত্রটি ভিন্ন। ২০১৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে মাত্র দুজন প্রযুক্তিখাতের ছিলেন। এখন সেই সংখ্যা সাত এবং শীর্ষ ছয়জনই প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।

ঢাকা/আরএইচ