০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

গত ৪ মাসে ব্যাংক লুটের খবর নেই: সংসদে পার্থ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৪৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৩ বার দেখা হয়েছে

বর্তমান সরকারের গত চার মাসের কোনো পত্রিকা খুললে একটি ব্যাংক লুটের খবরও পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারে এই পার্থক্য সুস্পষ্ট।শনিবার (২৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী’ আখ্যা দিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘এই বাজেটে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, স্টার্টআপ সাপোর্ট এবং ক্যানসার-হার্ট-চোখের চিকিৎসার মতো ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বাজেটে আমি একটি মেসেজ দেখেছি- একটি স্বৈরাচার আর একটি জনগণের সরকারের মধ্যে পার্থক্য। এই বাজেটের মাইন্ডসেটটা সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী।’

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ট্র্যাক রেকর্ড গত ১৭ বছর ভালো ছিল না, কারণ তখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হয়েছে। দরবেশ-লুটেরারা কীভাবে দেশ লুট করবে, তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনগণকে শুধু ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু দেখানো হয়েছে, যা যথেচ্ছা টাকা দিয়ে বানিয়ে একটি ‘সিম্বল অব অ্যারোগেন্স’ (অহংকারের প্রতীক) হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। শাহজাহানের তাজমহল যেমন অহংকারের প্রতীক ছিল, এটিও তা-ই। অথচ তখন মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছিল।’

বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গত চার মাসের পত্রিকা খুলে একটি ব্যাংক লুটের খবর দেখাতে পারবেন না। পলিটিক্যালি প্যাট্রোনাইজড (রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়) কোনো দুর্নীতি নেই। তাই আমাদের বেনিফিট অব দ্য ডাউট দিন। বাজেট নিয়ে রাজনীতি না করে এটিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ Politics

মদিনা সনদের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার উদাহরণ টেনে তিনি দেশে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রসারের প্রস্তাব দেন। পার্থ বলেন, ‘জাকাত আমাদের অর্থনীতির বড় একটি অংশ, কিন্তু এটি হিডেন (লুকায়িত)। আমার প্রস্তাব হলো, প্রত্যেকটি নির্বাচনী আসনে জাকাত পাওয়ার যোগ্য মানুষদের নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হোক। এতে প্রবাসীরাও সহজে জাকাত দিতে পারবেন। এ ছাড়া জাকাত দাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে একটি ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালু করা যেতে পারে।’

ইসলামিক ব্যাংকিং প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ব্যাংকিং এখন সারা বিশ্বে ট্রেন্ড। ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া সব জায়গায় এটি জনপ্রিয়। একটি ইসলামী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে বলে সিস্টেম খারাপ হয়ে যায়নি, ডাকাত খারাপ ছিল। আমরা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি চাই, ডিভাইন ব্লেসিং (আল্লাহর রহমত) চাই। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শুধু উন্নয়ন চাই না, যেখানে আত্মহত্যার হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার উন্নয়ন নিয়ে জোরালো দাবি জানান পার্থ। তিনি বলেন, ‘একটি পরিবারে তিন সন্তানের মধ্যে কেউ অঙ্কে ভালো হলে বাবা-মা তার জন্য আলাদা টিচার রাখেন। ভোলায় ১.৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আছে। আমাকে অঙ্কের টিচারের মতো আলাদা করে দেখা উচিত। মন্ত্রীদের আমার পিছে ঘোরা উচিত, অথচ আমি হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট ও ব্রিজের জন্য ঘুরছি।’

ভোলা-বরিশাল সেতু বাজেটে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ভোলায় দ্রুত অবকাঠামো ও এয়ারপোর্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘ভোলাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ‘ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হোক। ভোলা হতে পারে বাংলাদেশের ওয়ার্কশপ, চীনের শেনজেন কিংবা মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মতো অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।’

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

গত ৪ মাসে ব্যাংক লুটের খবর নেই: সংসদে পার্থ

আপডেট: ০৭:৪৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বর্তমান সরকারের গত চার মাসের কোনো পত্রিকা খুললে একটি ব্যাংক লুটের খবরও পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারে এই পার্থক্য সুস্পষ্ট।শনিবার (২৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী’ আখ্যা দিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘এই বাজেটে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, স্টার্টআপ সাপোর্ট এবং ক্যানসার-হার্ট-চোখের চিকিৎসার মতো ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বাজেটে আমি একটি মেসেজ দেখেছি- একটি স্বৈরাচার আর একটি জনগণের সরকারের মধ্যে পার্থক্য। এই বাজেটের মাইন্ডসেটটা সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী।’

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ট্র্যাক রেকর্ড গত ১৭ বছর ভালো ছিল না, কারণ তখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হয়েছে। দরবেশ-লুটেরারা কীভাবে দেশ লুট করবে, তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনগণকে শুধু ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু দেখানো হয়েছে, যা যথেচ্ছা টাকা দিয়ে বানিয়ে একটি ‘সিম্বল অব অ্যারোগেন্স’ (অহংকারের প্রতীক) হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। শাহজাহানের তাজমহল যেমন অহংকারের প্রতীক ছিল, এটিও তা-ই। অথচ তখন মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছিল।’

বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গত চার মাসের পত্রিকা খুলে একটি ব্যাংক লুটের খবর দেখাতে পারবেন না। পলিটিক্যালি প্যাট্রোনাইজড (রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়) কোনো দুর্নীতি নেই। তাই আমাদের বেনিফিট অব দ্য ডাউট দিন। বাজেট নিয়ে রাজনীতি না করে এটিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ Politics

মদিনা সনদের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার উদাহরণ টেনে তিনি দেশে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রসারের প্রস্তাব দেন। পার্থ বলেন, ‘জাকাত আমাদের অর্থনীতির বড় একটি অংশ, কিন্তু এটি হিডেন (লুকায়িত)। আমার প্রস্তাব হলো, প্রত্যেকটি নির্বাচনী আসনে জাকাত পাওয়ার যোগ্য মানুষদের নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হোক। এতে প্রবাসীরাও সহজে জাকাত দিতে পারবেন। এ ছাড়া জাকাত দাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে একটি ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালু করা যেতে পারে।’

ইসলামিক ব্যাংকিং প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ব্যাংকিং এখন সারা বিশ্বে ট্রেন্ড। ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া সব জায়গায় এটি জনপ্রিয়। একটি ইসলামী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে বলে সিস্টেম খারাপ হয়ে যায়নি, ডাকাত খারাপ ছিল। আমরা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি চাই, ডিভাইন ব্লেসিং (আল্লাহর রহমত) চাই। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শুধু উন্নয়ন চাই না, যেখানে আত্মহত্যার হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার উন্নয়ন নিয়ে জোরালো দাবি জানান পার্থ। তিনি বলেন, ‘একটি পরিবারে তিন সন্তানের মধ্যে কেউ অঙ্কে ভালো হলে বাবা-মা তার জন্য আলাদা টিচার রাখেন। ভোলায় ১.৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আছে। আমাকে অঙ্কের টিচারের মতো আলাদা করে দেখা উচিত। মন্ত্রীদের আমার পিছে ঘোরা উচিত, অথচ আমি হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট ও ব্রিজের জন্য ঘুরছি।’

ভোলা-বরিশাল সেতু বাজেটে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ভোলায় দ্রুত অবকাঠামো ও এয়ারপোর্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘ভোলাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ‘ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হোক। ভোলা হতে পারে বাংলাদেশের ওয়ার্কশপ, চীনের শেনজেন কিংবা মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মতো অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।’

ঢাকা/আরএইচ