এলপিজি ও খাদ্য ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে কেঅ্যান্ডকিউ
- আপডেট: ০৬:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / ১০৩২৮ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: কার্বন রড, কয়লা আলকাতরা এবং কীটনাশক ব্যবসায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হওয়ার পর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কেঅ্যান্ডকিউ এবার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায় ভাগ্য ফেরাতে চায়।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বিদ্যমান সিএনজি স্টেশনে এলপিজি ফিলিং এবং জ্বালানি ফিলিং পরিষেবা যোগ করতে চাই, যা সব ধরনের যানবাহনের জন্য ওয়ান স্টপ স্টেশনে পরিণত হবে।’ ‘অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন খাদ্য পণ্যের পরিকল্পনাও তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে’, বলে তিনি যোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেঅ্যান্ডকিউ লিমিটেডের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানিটির বোর্ড এখনও খাদ্য ব্যবসা খোলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি। এটি এখন খাদ্য ব্যবসা মূল্যায়ন পরিকল্পনা করছে।
এছাড়াও, তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি আইসিটি-ভিত্তিক একটি মাল্টিসোর্সিং ফার্মের সাথে একীভূত হতে যাচ্ছে। এতে কোম্পানিটি মাল্টিসোর্সিং ফার্ম থেকে ভালো আয়ের প্রত্যাশা করছে। যা আইসিটি শাখা থেকে আয় কোম্পানির সামগ্রিক লাভের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলবে যা পরবর্তীতে শেয়ারহোল্ডারদের আগ্রহের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি জানান, মহামান্য হাইকোর্ট ইতিমধ্যে কোম্পানিটিকে একীভূতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
জানা যায়, কেঅ্যান্ডকিউ একসময় ড্রাই সেল ব্যাটারির জন্য কার্বন রড তৈরি করত। তবে দেশে ড্রাই সেল ব্যাটারির চাহিদা কমে যাওয়ার পর কোম্পানিটি লোকসানে পড়ে। পরে ২০১২ সালে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে কোম্পানিটি কয়লা আলকাতরা এবং কীটনাশক উদ্যোগ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।
তাই এসব ব্যবসা লাভের মুখ দেখেনি। এসব কারখানাও বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানির মালিকরা। এছাড়া কারখানাটি যন্ত্রপাতি প্রায় অব্যবহ্নত পড়ায় ২০১৫ সালে এগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
কারখানা প্রাঙ্গনে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করছে। এছাড়া ভুটান ও ভারত থেকে আমদানি করা পাথরও বিক্রি করছে।
একই সময়ে কোম্পানিটি খালি কারখানার জমি সিজি ফুডস (বাংলাদেশ) লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিয়েছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে সিনজি ও পাথর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ৫৩ লাখ টাকা। তবে জমি ভাড়ার আয় থেকে কোম্পানিটি বছর শেষে মুনাফা করেছে ৫৩ লাখ টাকা। সেই বছরের জন্য এটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছে। যা সম্প্রতি বিএসইসি অনুমোদন করেছে।
বিএসইসি কোম্পানিটিকে এর পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করতে বলেছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সিএনজি ভরাট এবং পাথর ব্যবসা থেকে কোম্পানির ৩৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। অপরদিকে, জমি ভাড়া থেকে ৬৩ লাখ টাকা আয় করেছে। যা কোম্পানিটিকে মুনাফায় থাকতে সাহায্য করেছে।
আলোচ্য সময়ে (জুলাই-ডিসেম্ব ‘২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬ ছিল।
আজ মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) কোম্পনিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮৫ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে শেয়ারটির পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৬৪৯.০৯ পয়েন্টে।
ঢাকা/এমআর

































