১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

কমছে শেয়ারবাজারের সূচক, তেলের দাম বাড়তি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১০৩৭৭ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একদিন যেতে না যেতেই অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজার। জ্বালানি তেলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার। এদিকে শেয়ারবাজারের সূচকের পতন যেন থামছেই না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের বড় শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের বড় রকমের পতন ঘটেছে। যুদ্ধ ঘোষণাকারী রাশিয়ার বাজারেই সূচকের পয়েন্ট ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে এখন ১০৫ ডলারে অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে সামনে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক আগাম কেনাবেচায় প্রতি ব্যারেল (৪২ মার্কিন গ্যালন বা ১৫৯ ব্রিটিশ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এটি ২০১৪ সালের পর জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। আগের দিন বুধবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গতকাল প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছে। যদিও বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৯৬ ডলার।

তেল ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে গ্যাসের দাম। রুশ হামলার পরই প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া সেফ হ্যাভেন বা নিরাপদ বিনিয়োগ খ্যাত সোনার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। পণ্যটির আউন্সপ্রতি (২৮ দশমিক ৪ গ্রাম) দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৮ ডলারে উঠে গেছে। 

এদিকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বড় পতনটি দেখেছে খোদ রাশিয়ার শেয়ারবাজার। দেশটির শেয়ারবাজারের মোয়েক্স সূচক ৪৫ শতাংশ কমেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক দিনে অবশ্য রুশ শেয়ারবাজারের মূলধন ২৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কমেছে। এ ছাড়া রুশ মুদ্রা রুবলের বিনিময় হারও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পড়ে গেছে।

এশিয়ায় জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৮১, হংকংয়ের হেংসেং সূচক ৩ দশমিক ৮১, ভারতের বোম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স সূচক ৪ দশমিক ৭২, চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত সূচক ১ দশমিক ৭১ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ৩ দশমিক ২৭ ও এফটিএসই ২৫০ সূচক শূন্য দশমিক ৭২, নেদারল্যান্ডসের এইএক্স সূচক ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ফ্রান্সের প্যারিসের সিএসি ৪০ সূচক ৪ দশমিক ৯৩, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক ৫ দশমিক ৫ এবং ইউরো স্টকস সূচক ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
 
ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১২৫ ডলারে এবং আগামী ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে উঠতে পারে। এর আগে ২০০৮ সালে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল দাম ১৪৭ ডলারে উঠেছিল, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
সূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি
ঢাকা/এমআর

শেয়ার করুন

কমছে শেয়ারবাজারের সূচক, তেলের দাম বাড়তি

আপডেট: ১২:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিজনেস জার্নাল ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একদিন যেতে না যেতেই অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজার। জ্বালানি তেলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার। এদিকে শেয়ারবাজারের সূচকের পতন যেন থামছেই না।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের বড় শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের বড় রকমের পতন ঘটেছে। যুদ্ধ ঘোষণাকারী রাশিয়ার বাজারেই সূচকের পয়েন্ট ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে এখন ১০৫ ডলারে অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে সামনে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক আগাম কেনাবেচায় প্রতি ব্যারেল (৪২ মার্কিন গ্যালন বা ১৫৯ ব্রিটিশ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এটি ২০১৪ সালের পর জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। আগের দিন বুধবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গতকাল প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছে। যদিও বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৯৬ ডলার।

তেল ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে গ্যাসের দাম। রুশ হামলার পরই প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া সেফ হ্যাভেন বা নিরাপদ বিনিয়োগ খ্যাত সোনার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। পণ্যটির আউন্সপ্রতি (২৮ দশমিক ৪ গ্রাম) দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৮ ডলারে উঠে গেছে। 

এদিকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বড় পতনটি দেখেছে খোদ রাশিয়ার শেয়ারবাজার। দেশটির শেয়ারবাজারের মোয়েক্স সূচক ৪৫ শতাংশ কমেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক দিনে অবশ্য রুশ শেয়ারবাজারের মূলধন ২৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কমেছে। এ ছাড়া রুশ মুদ্রা রুবলের বিনিময় হারও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পড়ে গেছে।

এশিয়ায় জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৮১, হংকংয়ের হেংসেং সূচক ৩ দশমিক ৮১, ভারতের বোম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স সূচক ৪ দশমিক ৭২, চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত সূচক ১ দশমিক ৭১ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ৩ দশমিক ২৭ ও এফটিএসই ২৫০ সূচক শূন্য দশমিক ৭২, নেদারল্যান্ডসের এইএক্স সূচক ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ফ্রান্সের প্যারিসের সিএসি ৪০ সূচক ৪ দশমিক ৯৩, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক ৫ দশমিক ৫ এবং ইউরো স্টকস সূচক ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
 
ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১২৫ ডলারে এবং আগামী ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে উঠতে পারে। এর আগে ২০০৮ সালে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল দাম ১৪৭ ডলারে উঠেছিল, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
সূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি
ঢাকা/এমআর