০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

সুদ পরিশোধেই সরকারের ব্যয় ৭০ হাজার কোটি টাকা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০২:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২
  • / ১০৩৪১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল  প্রতিবেদক: বাজেটে সুদ ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ক্রমেই এই ব্যয় বেড়ে অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় খাতে অর্থ বরাদ্দ ধরা ছিল ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। যা মূল বাজেটের চেয়ে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা বেশি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

অর্থ বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সুদ ব্যয় খাতে শতভাগ অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে ১১১ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে। এর আগের, অর্থবছরে এই হার ছিল ১০১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও সুদ ব্যয়ের পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

একইভাবে এর আগের, অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) সুদ ব্যয় খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৫৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে ব্যয় করা হয় ৫৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা।

সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত দুই অর্থবছরে সুদ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়া। এই খাত থেকে সরকারের বেশি করে ঋণ নেওয়ার কারণে সুদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। কারণ সঞ্চয়পত্রে সুদের হার অনেক বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার সুদ ব্যয় বাজেটের লক্ষ্যমাত্রায় রাখা সম্ভব হতে পারে। কারণ সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি বেশ কমে গেছে। তবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বেড়ে গেলে সরকারকে বেশি করে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পরতে পারে। এতে সুদ ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে সুদ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ সুদ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদ ব্যয় ছিল ৪৫ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় ৩ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদ খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই ব্যয় যথাক্রমে ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদ ব্যয় ছিল ২৯ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

সুদ পরিশোধেই সরকারের ব্যয় ৭০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট: ০২:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

বিজনেস জার্নাল  প্রতিবেদক: বাজেটে সুদ ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ক্রমেই এই ব্যয় বেড়ে অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় খাতে অর্থ বরাদ্দ ধরা ছিল ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। যা মূল বাজেটের চেয়ে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা বেশি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

অর্থ বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সুদ ব্যয় খাতে শতভাগ অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে ১১১ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে। এর আগের, অর্থবছরে এই হার ছিল ১০১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও সুদ ব্যয়ের পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

একইভাবে এর আগের, অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) সুদ ব্যয় খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৫৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে ব্যয় করা হয় ৫৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা।

সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত দুই অর্থবছরে সুদ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়া। এই খাত থেকে সরকারের বেশি করে ঋণ নেওয়ার কারণে সুদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। কারণ সঞ্চয়পত্রে সুদের হার অনেক বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার সুদ ব্যয় বাজেটের লক্ষ্যমাত্রায় রাখা সম্ভব হতে পারে। কারণ সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি বেশ কমে গেছে। তবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বেড়ে গেলে সরকারকে বেশি করে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পরতে পারে। এতে সুদ ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে সুদ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ সুদ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদ ব্যয় ছিল ৪৫ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় ৩ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদ খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই ব্যয় যথাক্রমে ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সুদ ব্যয় ছিল ২৯ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

ঢাকা/টিএ