০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

শ্রীলঙ্কার থেকেও মূলধনে পিছিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত: বিশ্বব্যাংক

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২
  • / ১০৪২১ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্যাংকের প্রধান ভিত্তি হলো তার মূলধন। মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের ছোট-বড় প্রায় সব দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত। এমনকি চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা শ্রীলঙ্কার ব্যাংক খাতের সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত প্রায় এক দশক ধরে ব্যাংক খাতে সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত কমছে। যার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।

ব্যাংকিং খাতে সাধারণত, কোন ব্যাংকের শক্তি বিবেচনা করা হয় ওই ব্যাংক দূর্যোগ মোকাবিলায় কতটা সক্ষম তা পরিমাপ করে, যার ভিত্তি হলো ব্যাংকের মূলধন। এছাড়া, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা পরিমাপেরও মাপকাঠি ওই মূলধন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনা মহামারি চলাকালীন ২০২০ সাল শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট সম্পদ ছিল ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ছিল ব্যাংকগুলোর মূলধন ও শেয়ারহোল্ডার ইকুইটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ব্যাংক খাতে সাধারণ গ্রাহকদের জমানো আমানতের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রেখে মূলধন বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দ্রুত আমানত বাড়লেও সে অনুপাতে মূলধন না বেড়ে উল্টো কমেছে।

মূলত, আমানতকারীদের জমানো অর্থ থেকে গ্রাহকদের যে ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়া হয়, সেটিও ব্যাংকের সম্পদ। অন্যদিকে মূলধন হলো ব্যাংকের উদ্যোক্তা তথা শেয়ারহোল্ডারদের জোগান দেওয়া পরিশোধিত মূলধন, বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ ও রিটেইন আর্নিংস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকের মূলধন কম থাকলে আমানতকারীদের অর্থ থাকে ঝুঁকিতে। কারণ, মূলধন একটি আস্থার প্রতীক। মূলধন কম থাকলে ব্যাংক যত বড়ই হোক, টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, সম্পদের বিপরীতে মূলধন সক্ষমতার হার কম থাকার অর্থই হলো ব্যাংকগুলো দুর্বল।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কার থেকেও মূলধনে পিছিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত: বিশ্বব্যাংক

আপডেট: ০৩:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ব্যাংকের প্রধান ভিত্তি হলো তার মূলধন। মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের ছোট-বড় প্রায় সব দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত। এমনকি চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা শ্রীলঙ্কার ব্যাংক খাতের সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত প্রায় এক দশক ধরে ব্যাংক খাতে সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত কমছে। যার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।

ব্যাংকিং খাতে সাধারণত, কোন ব্যাংকের শক্তি বিবেচনা করা হয় ওই ব্যাংক দূর্যোগ মোকাবিলায় কতটা সক্ষম তা পরিমাপ করে, যার ভিত্তি হলো ব্যাংকের মূলধন। এছাড়া, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা পরিমাপেরও মাপকাঠি ওই মূলধন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনা মহামারি চলাকালীন ২০২০ সাল শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট সম্পদ ছিল ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ছিল ব্যাংকগুলোর মূলধন ও শেয়ারহোল্ডার ইকুইটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ব্যাংক খাতে সাধারণ গ্রাহকদের জমানো আমানতের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রেখে মূলধন বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দ্রুত আমানত বাড়লেও সে অনুপাতে মূলধন না বেড়ে উল্টো কমেছে।

মূলত, আমানতকারীদের জমানো অর্থ থেকে গ্রাহকদের যে ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়া হয়, সেটিও ব্যাংকের সম্পদ। অন্যদিকে মূলধন হলো ব্যাংকের উদ্যোক্তা তথা শেয়ারহোল্ডারদের জোগান দেওয়া পরিশোধিত মূলধন, বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ ও রিটেইন আর্নিংস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকের মূলধন কম থাকলে আমানতকারীদের অর্থ থাকে ঝুঁকিতে। কারণ, মূলধন একটি আস্থার প্রতীক। মূলধন কম থাকলে ব্যাংক যত বড়ই হোক, টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, সম্পদের বিপরীতে মূলধন সক্ষমতার হার কম থাকার অর্থই হলো ব্যাংকগুলো দুর্বল।

ঢাকা/টিএ