০২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালা ঘোষণা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০২২
  • / ১০৩৬০ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ছবি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঋণ ছাড়াও ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় দেয়া হয়েছে। আর সঞ্চিতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ থেকে শতভাগ রাখার নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের সীমা উঠিয়ে দিয়ে গতকাল আলাদা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বন্ডে সুদহার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালাবিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্যান্য সম্পদ খাতে প্রদর্শিত রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত দফাগুলো ব্যাংকের প্রকৃত সম্পদ নয়। তবু সম্পদ হিসেবে স্থিতিপত্রে দেখানো হয়। অনেক সময় কোনো কোনো ব্যাংক ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় কিছু দফাও অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখায়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো এ দফাগুলো সঠিক ও যথাযথ খাতে হিসাবভুক্ত করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা খুবই জরুরি। যদিও সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো বিভিন্ন দফার সমন্বয়, শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ফলে আর্থিক বিবরণী তৈরিতে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে মিল থাকছে না। এজন্যই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো এ দফাগুলো সঠিকভাবে এবং যথাযথ খাতে সমন্বয়, শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে।

অগ্রিম ও ব্যয়বাচক অসমন্বিত দফাগুলোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যবসা উন্নয়ন, ভ্রমণ, আপ্যায়ন, বিজ্ঞাপন, বেতন-ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত খরচ বা অন্যান্য সম্পদ খাতের সাসপেন্স/সান্ড্রি ডেটরস/প্রি-পেইড এক্সপেন্স শিরোনামের আওতায় বা অন্য যে কোনো শিরোনামের আওতায় দেখানো রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত খরচগুলো সৃষ্টির তারিখ থেকে ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব কিন্তু এক বছরের কম সময়কাল পর্যন্ত অসমন্বিত থাকলে, তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে ৫০ শতাংশ। কিন্তু এক বছর বা তদূর্ধ্ব সময়কাল পর্যন্ত অসমন্বিত থাকলে সেটিকে শ্রেণীকরণ করতে হবে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে। বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

অনেক সময় বিভিন্ন কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের পক্ষে এক বছরের অধিককাল ব্যবহূত হয় বা সার্ভিস পাওয়া যায়—এ ধরনের সম্পদ অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো হয়। কম্পিউটার, এটিএম ও সফটওয়্যার/হার্ডওয়ার কেনা, বিভিন্ন স্থাপনার চলমান ব্যয়সহ সংশ্লিষ্ট ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় খরচগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ দফাগুলো সৃষ্টির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে সমন্বয় করে যথাযথ খাতে হিসাবভুক্ত করতে হবে। এসব ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় খরচের কোনো দফা সংশ্লিষ্ট খাতে এক বছরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আইনি বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে আর্থিক বিবরণীতে যথাযথ ঘোষণা দিতে হবে। এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ ছাড়া এক বছরের মধ্যে তা সমন্বয় করা না হলে, মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। এ ধরনের দফাগুলোর বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

মামলা-মোকদ্দমা বা আইনি খরচ-সংক্রান্ত বিষয়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্যান্য সম্পদের মধ্যে আইন খরচ বা মামলা-মোকদ্দমা খরচ থাকলে অনিষ্পন্ন মামলার বিষয়টিতে অনিশ্চয়তা থাকে। এজন্য এ-জাতীয় খরচ সৃষ্টির তারিখ থেকে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে তার বিপরীতে ৫০ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। সৃষ্টির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে সমন্বয় করা না হলে সেটি মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের দফাগুলোর বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। তবে নিষ্পন্নকৃত মামলার বিপরীতে যদি কোনো দফা অসমন্বিত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দফা যখনই সৃষ্টি হোক না কেন সেটি মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যাংকের তসরুপকৃত অর্থের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জালজালিয়াতি, সংঘটিত ডাকাতি, তহবিল তসরুপ ইত্যাদি কারণে এ ধরনের খাত বা সম্পদ সৃষ্টি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদ খাতে যা দেখানো হয়। তসরুপকৃত অর্থ জড়িত ব্যক্তি/ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আদায়ের আগ পর্যন্ত এ-জাতীয় দফাগুলো মন্দ মানে শ্র্রেণীকরণ করতে হবে। তার বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। তবে ওই অর্থ সম্পূর্ণ আদায় না হয়ে আংশিক আদায় হলে অবশিষ্ট অনাদায়ী অংশের জন্য মন্দ মান বহাল রেখে তার বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি রাখতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আন্তঃশাখা অসমন্বিত হিসাব, নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের অসমন্বিত হিসাব, প্রাপ্য আয়-সংক্রান্ত দফা অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ, ট্রেজারি বিল-বন্ড, করপোরেট বন্ড, সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, কমার্শিয়াল পেপার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির বিপরীতে প্রাপ্য সুদসহ অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো প্রাপ্য আয়-সংক্রান্ত বিষয়েও শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে ইউএস বন্ডে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এর আগে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সংযুক্ত করে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের প্রচলিত ধারার সবক’টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর কাছে জারীকৃত ওই প্রজ্ঞাপনটি পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। বন্ড দুটিতে এতদিন মুনাফা ছিল চার স্তরের। নতুন প্রজ্ঞাপনে এটিকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে এতদিন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা। একইভাবে দ্বিতীয় বছর শেষে ৭ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

এছাড়া ১ লাখ ১ ডলার থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করে প্রথম বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৪ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। আর ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৩ ও তৃতীয় বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাব।

অন্যদিকে ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ৪ দশমিক ৫ আর তৃতীয় বছর শেষে ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

এছাড়া ১ লাখ ১ ডলার থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ৩ দশমিক ৫ ও মেয়াদান্তে ৬ শতাংশের বদলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ২, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ২ দশমিক ৫ ও তৃতীয় বছর শেষে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইউএস ডলারের দুটি সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। নতুন স্ল্যাবভিত্তিক মুনাফা দেয়ার ক্ষেত্রে স্কিম দুটির আগের বিনিয়োগ হিসাবায়ন হবে। তবে নতুন স্ল্যাব চালুর আগে ইস্যুকৃত সঞ্চয় স্কিম দুটির মুনাফার হার ক্রয়কালীন বিদ্যমান হারে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ সীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সে সময় এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে বিনিয়োগের সীমা আর থাকছে না।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালা ঘোষণা

আপডেট: ০৩:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: ঋণ ছাড়াও ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় দেয়া হয়েছে। আর সঞ্চিতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ থেকে শতভাগ রাখার নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের সীমা উঠিয়ে দিয়ে গতকাল আলাদা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বন্ডে সুদহার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব 

সম্পদের শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নীতিমালাবিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্যান্য সম্পদ খাতে প্রদর্শিত রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত দফাগুলো ব্যাংকের প্রকৃত সম্পদ নয়। তবু সম্পদ হিসেবে স্থিতিপত্রে দেখানো হয়। অনেক সময় কোনো কোনো ব্যাংক ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় কিছু দফাও অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখায়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো এ দফাগুলো সঠিক ও যথাযথ খাতে হিসাবভুক্ত করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা খুবই জরুরি। যদিও সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো বিভিন্ন দফার সমন্বয়, শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ফলে আর্থিক বিবরণী তৈরিতে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে মিল থাকছে না। এজন্যই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো এ দফাগুলো সঠিকভাবে এবং যথাযথ খাতে সমন্বয়, শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে।

অগ্রিম ও ব্যয়বাচক অসমন্বিত দফাগুলোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যবসা উন্নয়ন, ভ্রমণ, আপ্যায়ন, বিজ্ঞাপন, বেতন-ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত খরচ বা অন্যান্য সম্পদ খাতের সাসপেন্স/সান্ড্রি ডেটরস/প্রি-পেইড এক্সপেন্স শিরোনামের আওতায় বা অন্য যে কোনো শিরোনামের আওতায় দেখানো রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার-সংক্রান্ত খরচগুলো সৃষ্টির তারিখ থেকে ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব কিন্তু এক বছরের কম সময়কাল পর্যন্ত অসমন্বিত থাকলে, তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে ৫০ শতাংশ। কিন্তু এক বছর বা তদূর্ধ্ব সময়কাল পর্যন্ত অসমন্বিত থাকলে সেটিকে শ্রেণীকরণ করতে হবে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে। বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

অনেক সময় বিভিন্ন কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের পক্ষে এক বছরের অধিককাল ব্যবহূত হয় বা সার্ভিস পাওয়া যায়—এ ধরনের সম্পদ অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো হয়। কম্পিউটার, এটিএম ও সফটওয়্যার/হার্ডওয়ার কেনা, বিভিন্ন স্থাপনার চলমান ব্যয়সহ সংশ্লিষ্ট ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় খরচগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ দফাগুলো সৃষ্টির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে সমন্বয় করে যথাযথ খাতে হিসাবভুক্ত করতে হবে। এসব ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার জাতীয় খরচের কোনো দফা সংশ্লিষ্ট খাতে এক বছরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আইনি বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে আর্থিক বিবরণীতে যথাযথ ঘোষণা দিতে হবে। এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ ছাড়া এক বছরের মধ্যে তা সমন্বয় করা না হলে, মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। এ ধরনের দফাগুলোর বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

মামলা-মোকদ্দমা বা আইনি খরচ-সংক্রান্ত বিষয়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্যান্য সম্পদের মধ্যে আইন খরচ বা মামলা-মোকদ্দমা খরচ থাকলে অনিষ্পন্ন মামলার বিষয়টিতে অনিশ্চয়তা থাকে। এজন্য এ-জাতীয় খরচ সৃষ্টির তারিখ থেকে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে তার বিপরীতে ৫০ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। সৃষ্টির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে সমন্বয় করা না হলে সেটি মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের দফাগুলোর বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। তবে নিষ্পন্নকৃত মামলার বিপরীতে যদি কোনো দফা অসমন্বিত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দফা যখনই সৃষ্টি হোক না কেন সেটি মন্দ মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যাংকের তসরুপকৃত অর্থের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জালজালিয়াতি, সংঘটিত ডাকাতি, তহবিল তসরুপ ইত্যাদি কারণে এ ধরনের খাত বা সম্পদ সৃষ্টি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদ খাতে যা দেখানো হয়। তসরুপকৃত অর্থ জড়িত ব্যক্তি/ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আদায়ের আগ পর্যন্ত এ-জাতীয় দফাগুলো মন্দ মানে শ্র্রেণীকরণ করতে হবে। তার বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। তবে ওই অর্থ সম্পূর্ণ আদায় না হয়ে আংশিক আদায় হলে অবশিষ্ট অনাদায়ী অংশের জন্য মন্দ মান বহাল রেখে তার বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি রাখতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আন্তঃশাখা অসমন্বিত হিসাব, নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের অসমন্বিত হিসাব, প্রাপ্য আয়-সংক্রান্ত দফা অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ, ট্রেজারি বিল-বন্ড, করপোরেট বন্ড, সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, কমার্শিয়াল পেপার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির বিপরীতে প্রাপ্য সুদসহ অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো প্রাপ্য আয়-সংক্রান্ত বিষয়েও শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে ইউএস বন্ডে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এর আগে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সংযুক্ত করে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের প্রচলিত ধারার সবক’টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর কাছে জারীকৃত ওই প্রজ্ঞাপনটি পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। বন্ড দুটিতে এতদিন মুনাফা ছিল চার স্তরের। নতুন প্রজ্ঞাপনে এটিকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে এতদিন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা। একইভাবে দ্বিতীয় বছর শেষে ৭ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

এছাড়া ১ লাখ ১ ডলার থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করে প্রথম বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৪ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। আর ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৩ ও তৃতীয় বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাব।

অন্যদিকে ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ৪ দশমিক ৫ আর তৃতীয় বছর শেষে ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

এছাড়া ১ লাখ ১ ডলার থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ৩ দশমিক ৫ ও মেয়াদান্তে ৬ শতাংশের বদলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ২, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশের বদলে ২ দশমিক ৫ ও তৃতীয় বছর শেষে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইউএস ডলারের দুটি সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। নতুন স্ল্যাবভিত্তিক মুনাফা দেয়ার ক্ষেত্রে স্কিম দুটির আগের বিনিয়োগ হিসাবায়ন হবে। তবে নতুন স্ল্যাব চালুর আগে ইস্যুকৃত সঞ্চয় স্কিম দুটির মুনাফার হার ক্রয়কালীন বিদ্যমান হারে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ সীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সে সময় এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে বিনিয়োগের সীমা আর থাকছে না।

ঢাকা/টিএ