‘গলুই’ বন্ধ, এবার মুখ খুললেন শাকিব খান
- আপডেট: ০৫:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২
- / ১০৪৪০ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরেও ব্রিটিশ আমলের (১৯১৮ সালের) আইন দেখিয়ে বন্ধ করা হয়েছে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’ ছবির প্রদর্শনী। তাও আবার সিনেমাটি সরকারি অনুদান পেয়ে নির্মিত। শুধু তাই নয়, এতে অভিনয় করেছেন দেশের এক নম্বর নায়ক শাকিব খান!
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি জামালপুর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শন হচ্ছিল। একাডেমিতে ‘বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শিত হবে না’- এই আইনে ‘গলুই’ প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুর্শেদা জামান। অন্য একটি অডিটোরিয়ামে চালাতে গেলে সেখানেও বাধা দিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে সরব নির্মাতাসহ নেটিজেনরা। এবার নিজের ছবিটি নিয়ে মুখ খুললেন শীর্ষ নায়ক শাকিব খান।
বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকেই কথা বলেছেন সিনেমাটি নিয়ে।
ফেসবুকে নিজে ভেরিফায়েড পেজে আজ (১০ মে) তিনি লেখেন, ‘করোনায় গত দুই বছর দেশের সিনেমা অনেকটাই থমকে ছিল। এবারের ঈদে ভালো মানের সিনেমা মুক্তিতে গতি আসা শুরু করছিল। সবাই ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলী থেকে শুরু করে সিনেমা হল মালিক- প্রত্যেকের তাই দৃষ্টিই ছিল ঈদের সিনেমার দিকে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই আমার অভিনীত দুটি সিনেমা ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’র হল রিপোর্টও দারুণ পাচ্ছিলাম। বিশেষ করে ‘গলুই’র দর্শকপ্রিয়তা ছিল শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম ভালো লাগার। সুস্থ ধারার এই সিনেমা দেখতে মানুষ পরিবার নিয়ে আবার সিনেমা হলমুখী হয়েছেন; সংশ্লিষ্ট সবাইও তেমনটাই বলছিলেন।’
‘গলুই’র প্রসঙ্গে এই সুপারস্টার বলেন, ‘‘নতুন প্রজন্ম সরকারি অনুদানে তৈরি ‘গলুই’ সিনেমার মাধ্যমে নতুন করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছিল; যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছিল। কারও হয়তো অজানা নয় যে ‘গলুই’র বেশিরভাগ শুটিং জামালপুর জেলায় হয়েছে। ফলে অন্য যেকোনও জায়গার চেয়ে ছবিটি নিয়ে সেখানকার মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই জেলা শহরে নেই কোনও সিনেমা হল! বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্টরা জেলা শিল্পকলাসহ চারটি মিলনায়তনে ঈদের দিন থেকে সিনেমাটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এসব মিলনায়তনে দর্শকেরও উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার এই সংকটকালে জামালপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় ‘গলুই’ মুক্তির বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যা হতে পারতো সিনেমা হলহীন অন্য জেলা কিংবা উপজেলা শহরগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত। বাস্তবে ঘটলো উল্টোটা! বাদ সাধলো জামালপুর জেলা প্রশাসন! সিনেমাপ্রেমীদেরও মন ভেঙে গেল। নানান মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, শত বছর আগের তৈরি ‘সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট’-এর দোহাই দিয়ে মিলনায়তনগুলোতে ‘গলুই’র প্রদর্শনী বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! যা শুধু আমাকে ব্যথিত করেনি, বরং বিস্মিত ও হতবাক করেছে। ‘গলুই’ সিনেমাটি যখন সাধারণ মানুষরা সানন্দে গ্রহণ করেছেন, পরিবার নিয়ে দেখছেন; তখন এর প্রদর্শনী বন্ধের খবরে চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন।’’
সবশেষে শাকিব খান বলেন, ‘‘অতীতে বিকল্প ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সিনেমার প্রদর্শনী হয়েছে! সেসব সিনেমা প্রদর্শনে প্রশাসন সহায়তা করেছে। তাহলে ‘গলুই’ বিকল্প ব্যবস্থায় প্রদর্শন হতে সমস্যা কোথায়? চলচ্চিত্রের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি। সিনেমা হল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের সঠিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সিনেমা নির্মাণে বড় অনুদানসহ সরকারের বেশ কিছু পরিকল্পনা হয়তো এখন বাস্তবায়নের পথে। একইসঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চলচ্চিত্র উন্নয়নের আশ্বাস সবসময়ই দিয়ে থাকেন। আর সেই সময় যখন ব্রিটিশ আমলে তৈরি সিনেমা স্বার্থবিরোধী আইন দিয়ে পথ রোধ করা হয়, তখন বিষয়টি হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বাংলা সিনেমা দিয়ে বিশ্বজয় করা তো দূরে থাক, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব!’’
পিরিওডিক্যাল রোমান্টিক গল্পের ছবি ‘গলুই’ ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পেয়েছে। এর সহ-প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। চলচ্চিত্রটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন শাকিব খান ও পূজা চেরী। আরও অভিনয় করছেন আজিজুল হাকিম, সমু চৌধুরী, ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ।





































