বিএসইসির চিঠির জবাব দিয়েছে সাকিবের দুই কোম্পানি
- আপডেট: ০৫:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০২২
- / ১০৩২৫ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পূঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ব্যাখ্যা তলবের পর রিলায়েবেল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এবং বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ নামে সাকিবের দুটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বিএসইসিকে জবাব দিয়েছে। জবাবে তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মালিকানার দুটি কোম্পানি জানিয়েছে, তারা সকল নিয়মনীতি মেনেই স্বর্ণ ব্যবসা করছে।
গত রোববার (২৩ মে) বিএসইসিতে কোম্পানি দুটির আলাদা প্যাডে এ জবাবে স্বাক্ষর রয়েছে এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার রাশেক রহমানের। রাশেক রহমান আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য। বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জের অফিস তেজগাঁওয়ের একটি ঠিকানায়। আর দুটি শো’রুমের মধ্যে একটি ঢাকার বনানীতে এবং অন্যটি রংপুরের মুন্সিপাড়ায়। রিলায়েবেল কমোডিটি এক্সচেঞ্জের শো’রুমও একই ঠিকানায়।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গত ১৬ মে রিলায়েবেল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এবং বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি জানায়, সিকিউরিটিজ এন্ড এপেচঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ অনুযায়ী ভবিষ্যতে পণ্য বিক্রির জন্য চুক্তি বা ‘কমোডিটি ফিউচারস কন্ট্র্যাক্ট’এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি কমিশনে নিবন্ধিত কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সম্পন্ন হতে পারে এবং এ ধরণের চুক্তি ‘ সিকিউরিটি’ হিসেবে গণ্য হবে। ষ্টক এপচেঞ্জ নিবন্ধিত কোনো সদস্য ছাড়া কোনো ব্যক্তি কোনো সিকিউরিটির ব্রোকার ও ডিলার হতে পারে না। কমিশনের অনুেমাদন ছাড়া এবং কোনো ষ্টক এপচেঞ্জের সদস্য ছাড়া সাকিবের কোম্পানি কীভাবে ‘কমোডিটি ফিউচার’ ধরণের ব্যবসা করছে, সে বিষয়ে সাকিব আল হাসানের কোম্পানির অবস্থান ব্যাখ্যা করে ৭ দিনের মধ্যে জবাব চায় বিএসইসি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বিএসইসিতে পাঠানো কোম্পানি দুটির জবাবে বলা হয়, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে বর্তমান বাজার দরে ব্যবসা করছেন।
জবাবে আরও বলা হয়, তারা স্বর্ণের পণ্যগুেলা বর্তমান বাজার মুল্যে শুধু খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জড়োয়া হাউস, পুরবী জুয়েলার্স, ডায়মণ্ড ওয়ার্ল্ডসহ সকল জুয়েলার্স যে ধরনের ব্যবসা করে, তারাও একই ধরণের ব্যবসা করে আসছেন। তাদের কোম্পানির রিটেইল ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন আছে। তাদের ব্যবসার কর্মপরিধি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইন পরিপন্থী নয়। কোম্পানি দুটি স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করে অন্য কারো কাছে কোনো ব্যবসা অফার করছে না। অতএব সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সাথে তাদের ব্যবসার ধরণের কোনো সংশ্নেষ নেই। এছাড়া যেসকল নিউজ সোর্সের কথা উল্লেখ করে বিএসইসি চিঠি দিয়েছে, সেগুলার কোনটাতেই ফিউচার বা স্পট মূল্যে তারা ব্যবসা করেন- এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, বিএসইসির চিঠিতে দুটি পত্রিকার দুটি খবর সংযুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২৩ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে রিলায়েবেল কমোডিটি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান সাকিব আল হাসান বাংলােদেশি লাইফষ্টাইল ব্র্যান্ড কিউরিয়াসের সঙ্গে মিলে সুইজারল্যান্ডে তৈরি ১ থেকে ১০০ গ্রামের ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের বার বিক্রি করবে বলে ঘোষণা দেন। সাকিব আল হাসান জানান, তার অপর কোম্পানি বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ স্বর্ণবার আমদানি ও দেশের বাজারে বিক্রির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা/এসএ


































