পেনশন বিড়ম্বনায় অবসরপ্রাপ্ত ৩০ হাজার কর্মচারী
- আপডেট: ১২:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২
- / ১০৩৪৫ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: অবসরে গিয়ে পেনশন বিড়ম্বনায় পড়ছেন হাজার হাজার কর্মচারী। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের মধ্যে অনেকে পুরো পেনশন পেয়েছেন। তবে ব্যতিক্রম প্রায় ৩০ হাজার কর্মচারী। পেনশন আনুতোষিক কেটে রাখা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের দুটি পুরোনো আদেশ নতুনভাবে জারি করায় এমন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
২০০৫ সালের ২০ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিধিমালা জারি হয়। এতে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে নিয়মিতকৃত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উন্নয়ন প্রকল্পে চাকরিকাল তার বেতন, ছুটি, পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধাদি প্রদানসহ উন্নয়ন ও রাজস্ব উভয়ের ভিত্তিতে চাকরিকাল গণনা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগের আলাদা দুটি আদেশে শুধু রাজস্ব খাতের সময় গণনার কথা উল্লেখ করলে জটিলতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘উন্নয়ন প্রকল্প হইতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা, ২০০৫’ বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন চাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব হাবিবুন নাহারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রোববার যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘যাদের সমস্যা হচ্ছে, তারা যদি নিজেদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে তাহলে বিষয়টি আমরা দেখব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এভাবে সবার ক্ষেত্রে কমন মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’ এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি হাবিবুন নাহার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অর্থ বিভাগ থেকে ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ ও ২০১১ সালের ২২ সেপ্টম্বর দুটি আদেশ জারি করা হয়। এতে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আসা কর্মচারীদের চাকরিকাল শুধু রাজস্ব খাতের হিসাবে গণনার কথা বলা হয়। এই আদেশ কর্মচারীরা আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে ২০১২ সালে আদেশ দুটি বাতিল করে প্রকল্প ও রাজস্ব উভয় অংশের সময় গণনার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের পরও অর্থ বিভাগের আদেশ দুটি বাতিল হয়নি। উল্টো আদালতের বাতিল করা ওই দুটি আদেশ ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর ও ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর ফের বহাল করা হয়েছে। এতে সারা দেশে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর লাখ লাখ টাকার পেনশন কেটে রাখা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন আমিরুল ইসলাম। ২০১৭ সালে তিনি অবসরে গিয়ে ৪৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তার পেনশন থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত সরকার তার কর্মচারীরর বিরুদ্ধে নিতে পারে না। তিনি বলেন, সারা জীবন চাকরি করে পেনশন আমার অধিকার। আমাদের অনেকে এ অধিকার পেয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বিভাগে গিয়ে আটকে গেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। তাহলে আমরা সুবিচার পাব বলে আশা করি।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সদর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণকেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট হিসাবে কর্মরত সমর চন্দ্র বিশ্বাস অবসরে যাবেন ২০২৪ সালে। ওই সময়ে তার পেনশন পাওয়ার কথা ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু বিধিমালাবহির্ভূত সিদ্ধান্তের কারণে তার পেনশন হয়ে যাবে ৩৭ লাখ টাকার মতো। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে না তাকালে চাকরিজীবন শেষে তৃপ্তি পাব না। সমর চন্দ্র আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে থাকার সময়ও আমরা সরকারি স্কেলভুক্ত ছিলাম। এরপর রাজস্ব খাতে যাওয়ার পর টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পেয়েছি। সরকার তার বিধিমালা অনুযায়ী দেওয়া সুবিধা তো কেটে নিতে পারে না। এই বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি চাই।
ঢাকা/এসএ







































