০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

বিশ্বে প্রবৃদ্ধি কমবে, বাংলাদেশে বাড়বে: বিশ্বব্যাংক

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২
  • / ১০৩৩১ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ

‘বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলে, করোনা মহামারির কারণে এমনিতেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা চলছে। এ রকম অবস্থায় ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্থরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দুর্বল প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। অনেক দেশ মন্দার সম্মুখীন হয়েছে। এ পরিস্থিতি আরও খারাপ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

‘প্রবৃদ্ধিতে তীক্ষ্ণ মন্দার মধ্যে স্থবিরতার ঝুঁকি বেড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল নিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন করেছিল দেশটি। আর এটি ২০২২ সালের প্রথম দিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে তা খানিকটা কমে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ অর্জিত হবে। বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও বেড়ে হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশটি।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্ট আপডেট’ রিপোর্টেও বিশ্বব্যাংক বলেছিল চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে অবশ্য ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

মহামারি শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা ছিল তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

সরকার গত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরলেও মহামারি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্বলন করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্জনের হিসাব দিয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) কষে পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে লক্ষ্যের বেশি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হবে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে।

২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৪ শতাংশে নেমে আসবে। ভুটানে এই অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। আগামী অর্থবছরে হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

নেপালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে হবে; আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে হবে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল নিয়ে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন করোনা মহামারি থেকে ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, অনেক দেশ মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। এই আগ্রাসনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির বড় ধরনের সংকট ডেকে এনেছে। যা বিশ্বের অর্থনীতিকে ছোট করে ফেলছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনে নতুন কোভিড-১৯ লকডাউন, সরবরাহ-শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং স্থবিরতার ঝুঁকি, দুর্বল প্রবৃদ্ধির সময়কাল এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি-সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অবস্থা এখন দেখা দিয়েছে, তা ১৯৭০ সালের বিশ্ব মন্দার পর আর দেখা যায়নি।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালের জন্য ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখন সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা ২০২১ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ইউরো জোনে প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। চীনের অর্থনীতিতেও ২০২১ সালের তুলনায় এবারে প্রবৃদ্ধি কম হবে।

গত বছর চীনে যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ সেখানে এবারে তা মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ শুনিয়েছে যুদ্ধরত দুই দেশ ইউক্রেন ও রাশিয়াকে। সংস্থাটি চলতি বছরে ইউক্রেনের অর্থনীতি ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ ও রাশিয়ার অর্থনীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হারে সংকুচিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি এ বছরের চেয়েও কমে গিয়ে দেড় শতাংশে নেমে যেতে পারে। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে মাথাপিছু প্রবৃদ্ধি শূন্যের কাছাকাছিও চলে যেতে পারে।

ম্যালপাস আরও বলেন, ইউক্রন–রাশিয়া যুদ্ধ, করোনার কারণে চীনে আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং দেশে দেশে ঝুঁকি বাড়ছে। যে কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ১৯৭০–এর দশকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।

ঝুঁকি কমানোর জন্য বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর নীতিনির্ধারকদের ইউক্রেনের জন্য সাহায্য সমন্বয় করতে, খাদ্য ও জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে এবং রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ম্যালপাস। তা না করা গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

বিশ্বে প্রবৃদ্ধি কমবে, বাংলাদেশে বাড়বে: বিশ্বব্যাংক

আপডেট: ১২:১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২

‘বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলে, করোনা মহামারির কারণে এমনিতেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা চলছে। এ রকম অবস্থায় ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্থরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দুর্বল প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। অনেক দেশ মন্দার সম্মুখীন হয়েছে। এ পরিস্থিতি আরও খারাপ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

‘প্রবৃদ্ধিতে তীক্ষ্ণ মন্দার মধ্যে স্থবিরতার ঝুঁকি বেড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল নিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন করেছিল দেশটি। আর এটি ২০২২ সালের প্রথম দিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে তা খানিকটা কমে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ অর্জিত হবে। বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও বেড়ে হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশটি।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্ট আপডেট’ রিপোর্টেও বিশ্বব্যাংক বলেছিল চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে অবশ্য ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

মহামারি শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা ছিল তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

সরকার গত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরলেও মহামারি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্বলন করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্জনের হিসাব দিয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) কষে পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে লক্ষ্যের বেশি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হবে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে।

২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৪ শতাংশে নেমে আসবে। ভুটানে এই অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। আগামী অর্থবছরে হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

নেপালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে হবে; আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে হবে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল নিয়ে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন করোনা মহামারি থেকে ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, অনেক দেশ মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। এই আগ্রাসনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির বড় ধরনের সংকট ডেকে এনেছে। যা বিশ্বের অর্থনীতিকে ছোট করে ফেলছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনে নতুন কোভিড-১৯ লকডাউন, সরবরাহ-শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং স্থবিরতার ঝুঁকি, দুর্বল প্রবৃদ্ধির সময়কাল এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি-সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অবস্থা এখন দেখা দিয়েছে, তা ১৯৭০ সালের বিশ্ব মন্দার পর আর দেখা যায়নি।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালের জন্য ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখন সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা ২০২১ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ইউরো জোনে প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। চীনের অর্থনীতিতেও ২০২১ সালের তুলনায় এবারে প্রবৃদ্ধি কম হবে।

গত বছর চীনে যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ সেখানে এবারে তা মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ শুনিয়েছে যুদ্ধরত দুই দেশ ইউক্রেন ও রাশিয়াকে। সংস্থাটি চলতি বছরে ইউক্রেনের অর্থনীতি ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ ও রাশিয়ার অর্থনীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হারে সংকুচিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি এ বছরের চেয়েও কমে গিয়ে দেড় শতাংশে নেমে যেতে পারে। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে মাথাপিছু প্রবৃদ্ধি শূন্যের কাছাকাছিও চলে যেতে পারে।

ম্যালপাস আরও বলেন, ইউক্রন–রাশিয়া যুদ্ধ, করোনার কারণে চীনে আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং দেশে দেশে ঝুঁকি বাড়ছে। যে কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ১৯৭০–এর দশকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।

ঝুঁকি কমানোর জন্য বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর নীতিনির্ধারকদের ইউক্রেনের জন্য সাহায্য সমন্বয় করতে, খাদ্য ও জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে এবং রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ম্যালপাস। তা না করা গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

ঢাকা/টিএ