০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মিঠামইনে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
  • / ১০৩৪৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। হাওরবেষ্টিত এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ঘোড়াউড়া নদী তীরের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পল্লীতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫৯টি ঘরও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ কামাল।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত উপজেলার নানা এলাকায় অন্তত তিন ফুট পানি বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। মিঠামইন সদর ইউনিয়নের নবাবপুর, মিষ্টা, খিলাপাড়া নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ভুইঁয়া জানান, চমকপুর গ্রামের দক্ষিণের বেড়িবাঁধ তলিয়ে গেছে। ঘাগড়া, খলাপাড়া ও চমকপুরের কবরস্থানে পানি ডুকে পড়েছে। ঘাগড়া শ্মশানে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া শিহারা, ধোবাজোড়া, ডাইনগাও, সুলতানপুর, হাবিবপুর, আলগাহাটী গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, ধোবাজোড়া, শিহারার প্রায় আধা কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পানিতে তলিয়ে গিয়ে বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে না পেরে অনেক গৃহস্থ স্বল্প দরে গবাদি পশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ঘাগড়া বাজার থেকে চমকপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত অলওয়েদার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গোপদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ জানান, তার ইউনিয়নে ৮ টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব গ্রাম থেকে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি বলেন, পানি যদি আরও বাড়ে তবে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হবে। 

ঢাকী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান জানান, মডেল চরপাড়া, নতুনহাটী,পূর্বহাটী, শান্তিপুর, মাহমুদপুর, কুলাহানী, গোবিন্দপুর, সোনাপুর ও আতপাশা গ্রামগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানকার মানুষ।

কেওরজোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, তার ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুদিনে কুড়াকান্দি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেমন্তগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার।

বন্যাকবলিত গ্রাম রানীগঞ্জ, ওলিপুর, আশুপুর, হেমন্তগঞ্জ, মফিজনগর, নাগরপুর কুড়াকান্দি, ফুলপুর, নাসিরপুরের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। কাটখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের খাটখাল বাজার, খুরশিদপুর, শান্তিপুর, ঢালার গাও, অলেকপুর,মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দারা গবাদিপশু, ধান-চাল ও প্রয়োজনীয়   জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

মিঠামইন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোল্লা খলিলুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার জন্য তার কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, আগামী সোমবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

মিঠামইনে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

আপডেট: ১২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। হাওরবেষ্টিত এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ঘোড়াউড়া নদী তীরের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পল্লীতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫৯টি ঘরও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ কামাল।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত উপজেলার নানা এলাকায় অন্তত তিন ফুট পানি বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। মিঠামইন সদর ইউনিয়নের নবাবপুর, মিষ্টা, খিলাপাড়া নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ভুইঁয়া জানান, চমকপুর গ্রামের দক্ষিণের বেড়িবাঁধ তলিয়ে গেছে। ঘাগড়া, খলাপাড়া ও চমকপুরের কবরস্থানে পানি ডুকে পড়েছে। ঘাগড়া শ্মশানে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া শিহারা, ধোবাজোড়া, ডাইনগাও, সুলতানপুর, হাবিবপুর, আলগাহাটী গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, ধোবাজোড়া, শিহারার প্রায় আধা কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পানিতে তলিয়ে গিয়ে বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে না পেরে অনেক গৃহস্থ স্বল্প দরে গবাদি পশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ঘাগড়া বাজার থেকে চমকপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত অলওয়েদার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গোপদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ জানান, তার ইউনিয়নে ৮ টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব গ্রাম থেকে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি বলেন, পানি যদি আরও বাড়ে তবে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হবে। 

ঢাকী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান জানান, মডেল চরপাড়া, নতুনহাটী,পূর্বহাটী, শান্তিপুর, মাহমুদপুর, কুলাহানী, গোবিন্দপুর, সোনাপুর ও আতপাশা গ্রামগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানকার মানুষ।

কেওরজোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, তার ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুদিনে কুড়াকান্দি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেমন্তগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার।

বন্যাকবলিত গ্রাম রানীগঞ্জ, ওলিপুর, আশুপুর, হেমন্তগঞ্জ, মফিজনগর, নাগরপুর কুড়াকান্দি, ফুলপুর, নাসিরপুরের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। কাটখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের খাটখাল বাজার, খুরশিদপুর, শান্তিপুর, ঢালার গাও, অলেকপুর,মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দারা গবাদিপশু, ধান-চাল ও প্রয়োজনীয়   জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

মিঠামইন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোল্লা খলিলুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার জন্য তার কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, আগামী সোমবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা/এসএ