১১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

গৃহকর্মীকে ধর্ষণ: নির্বাচন কর্মকর্তাসহ দুজন কারাগারে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২
  • / ১০৩৬৬ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের মামলায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবিরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শরমিন জাহানের আদালত এ আদেশ দেন। হুমায়ুন কবির বর্তমানে রামগড় উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ট্রাইব্যুনাল পিপি অ্যাডভোকেট এমএ নাসের বলেন, ধর্ষণ মামলায় দুই আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসর্মপণ করতে নির্দেশনা দেন। সেই আলোকে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অভিযুক্ত উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ও নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা করেছেন।

১২ মে ফটিকছড়িতে ধর্ষণের দায়ে দুই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এক কাজের বুয়া। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবিরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

ভিকটিম এজাহারে উল্লেখ করেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম এবং সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির উপজেলা কমপ্লেক্সের অদূরে একটি যৌথ বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে থাকতেন। সেখানে রান্না-বান্নাসহ বুয়ার কাজ করতেন স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী। গত রমজান শুরুর এক সপ্তাহ পূর্বে অর্থাৎ ২৭ মার্চ দুপুর ৩টায় বাসা ডেকে নিয়ে দই-তরমুজসহ অন্যান্য রসালো খাদ্য খাওয়ায়।

‘বিকেল ৪টায় হঠাৎ উপজেলা আনসার-ভিডিপি অফিসার সাইদুল ইসলাম তাকে জোর করে ধরে নিয়ে তার রুমে নিয়ে তিনবার ধর্ষণ করেন। পরে তিনি তার পাশের রুমে থাকা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের রুমে পৌঁছে দেন। নির্বাচন অফিসার মুহূর্তেই ২টি ট্যাবলেট খেয়ে ৫ দফা তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আনসার সদস্য এয়াকুব কক্ষের বাইরে পাহারারত ছিল। ধর্ষণ শেষে রক্তাক্ত নারীকে ভয় দেখানো হয় কাউকে না জানাতে। লোভ দেখানো হয় টাকা-পয়সার। পরে আনসার সদস্যদের সহায়তায় তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করে তার বাসায় পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ ঘটনার পর থেকে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। আনসার সদস্যদের মাধ্যমে তাকে পাহারা দেয়া হয়, যেন সে কোথাও যেতে না পারে। আনসার সদস্য মোহাম্মদ সেলিমের মাধ্যমে তার চিকিৎসা বাবদ ৩ দফায় ২২ হাজার টাকা পাঠায় দুই কর্মকর্তা। পরে কাজের বুয়া বাসা থেকে বেরোতে চাইলে দুই কর্মকর্তা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে কৌশলে সমঝোতা করে বাসা থেকে বের হয়ে নাজিরহাটস্থ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্যান্য চিকিৎসা করান।’

অসুস্থ শরীর নিয়ে ১১ মে দুপুরে উপজেলা পরিষদে পৌঁছে চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নাহারকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা ভিকটিমকে ইউএনও’র কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

গৃহকর্মীকে ধর্ষণ: নির্বাচন কর্মকর্তাসহ দুজন কারাগারে

আপডেট: ০৬:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের মামলায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবিরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শরমিন জাহানের আদালত এ আদেশ দেন। হুমায়ুন কবির বর্তমানে রামগড় উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

ট্রাইব্যুনাল পিপি অ্যাডভোকেট এমএ নাসের বলেন, ধর্ষণ মামলায় দুই আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসর্মপণ করতে নির্দেশনা দেন। সেই আলোকে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অভিযুক্ত উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ও নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা করেছেন।

১২ মে ফটিকছড়িতে ধর্ষণের দায়ে দুই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এক কাজের বুয়া। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবিরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

ভিকটিম এজাহারে উল্লেখ করেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম এবং সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির উপজেলা কমপ্লেক্সের অদূরে একটি যৌথ বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে থাকতেন। সেখানে রান্না-বান্নাসহ বুয়ার কাজ করতেন স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী। গত রমজান শুরুর এক সপ্তাহ পূর্বে অর্থাৎ ২৭ মার্চ দুপুর ৩টায় বাসা ডেকে নিয়ে দই-তরমুজসহ অন্যান্য রসালো খাদ্য খাওয়ায়।

‘বিকেল ৪টায় হঠাৎ উপজেলা আনসার-ভিডিপি অফিসার সাইদুল ইসলাম তাকে জোর করে ধরে নিয়ে তার রুমে নিয়ে তিনবার ধর্ষণ করেন। পরে তিনি তার পাশের রুমে থাকা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের রুমে পৌঁছে দেন। নির্বাচন অফিসার মুহূর্তেই ২টি ট্যাবলেট খেয়ে ৫ দফা তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আনসার সদস্য এয়াকুব কক্ষের বাইরে পাহারারত ছিল। ধর্ষণ শেষে রক্তাক্ত নারীকে ভয় দেখানো হয় কাউকে না জানাতে। লোভ দেখানো হয় টাকা-পয়সার। পরে আনসার সদস্যদের সহায়তায় তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করে তার বাসায় পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ ঘটনার পর থেকে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। আনসার সদস্যদের মাধ্যমে তাকে পাহারা দেয়া হয়, যেন সে কোথাও যেতে না পারে। আনসার সদস্য মোহাম্মদ সেলিমের মাধ্যমে তার চিকিৎসা বাবদ ৩ দফায় ২২ হাজার টাকা পাঠায় দুই কর্মকর্তা। পরে কাজের বুয়া বাসা থেকে বেরোতে চাইলে দুই কর্মকর্তা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে কৌশলে সমঝোতা করে বাসা থেকে বের হয়ে নাজিরহাটস্থ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্যান্য চিকিৎসা করান।’

অসুস্থ শরীর নিয়ে ১১ মে দুপুরে উপজেলা পরিষদে পৌঁছে চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নাহারকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা ভিকটিমকে ইউএনও’র কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।

ঢাকা/এসএ