০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

ব্যাকরণ মানছে না পুঁজিবাজার!

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৪:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২
  • / ১০৩৫৯ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

শফিউল সুমন: উত্থান-পতন পুঁজিবাজারের ধর্ম। একদিন বাড়বে দুই দিন কমবে, কিংবা দুই দিন কমবে একদিন বাড়বে- পুঁজিবাজারে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে এমনটাই ঘটে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। বিশ্বের অন্য পুঁজিবাজারগুলোতে সুচকের ওঠানামার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এবং সে বিষয়টির সুরাহার পর বাজার তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেপথ্য কারণ খুব বেশি একটা খুজে পাওয়া যায় না। সুচকের একবার পতন হলে কারণ থাকুক আর না থাকুক খুব সহজে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উত্থানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয় না। যেমনটি ঘটছে সাম্প্রতিক পুঁজিবাজারে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৭ জুলাই ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এর অবস্থান ছিলো ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে, আর এ দিন ছিলো ঈদের ছুটির পূর্বে শেষ কার্যদিবস। ঈদের পর থেকে আজ ২০ জুলাই পর্যন্ত টানা পতনে বৃত্তে রয়েছে দেশের প্রধান এই পুঁজিবাজার। গত ১২ জুলাই ডিএসই প্রধান সূচকের অবস্থান ছিলো ৬ হাজার ৩৫৫ পয়েন্ট, আর আজ তা কমে ৬ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

আজ ডিএসইতে ৬৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ৩৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি। গতকাল ডিএসইতে ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে  ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৪৬ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২০৬ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৩৮১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ২১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ সিএসই সার্বিক সূচক সিএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট কমেছে। এদিন সিএসইতে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারের এমন পতনের কারণ বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের চিন্তিত করে তুলেছে। দেশের অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কায় শেয়ার বিক্রি করছেন তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে চলছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের মতে, ভয়ের কারণে পুঁজিবাজারে যে পতন হচ্ছে ততটা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের স্পেকিউলেটিভ মার্কেট, যার কারণে যে কোনো কিছু হলে শেয়ার মার্কেটের ওপরে দিয়ে যায়।

তারা বলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীরা আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন পরে আবার অনেকেই চলে আসবে তখন সব ঠিক হয়ে গেছে। তখন মনে হবে রিজার্ভ-টিজার্ভ সব ঠিক হয়ে গেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার কারণ হিসেবে তারা বলেন, করোনার মধ্যে দেশে কোনো ইমপোর্ট হয়নি। দেশের বাইরে কেউ যায়নি। কলকাতায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে লোক যায়, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক যায়। করোনার মধ্যে কোনো জায়গাতেই যায়নি। ট্যুর-ট্রাভেলস সব বন্ধ ছিল। রেমিট্যান্স ও এক্সপোর্টের মাধ্যমে ডলার যা এসেছে সব রিজার্ভে জমেছে। আর এখন ইমপোর্ট হচ্ছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ। রিজার্ভ তো কমবেই। ১০ বছর আগেও দেশের রিজার্ভ ছিল ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন। এখন সেটা ৩৯-এর ঘরে।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

ব্যাকরণ মানছে না পুঁজিবাজার!

আপডেট: ০৪:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২

শফিউল সুমন: উত্থান-পতন পুঁজিবাজারের ধর্ম। একদিন বাড়বে দুই দিন কমবে, কিংবা দুই দিন কমবে একদিন বাড়বে- পুঁজিবাজারে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে এমনটাই ঘটে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। বিশ্বের অন্য পুঁজিবাজারগুলোতে সুচকের ওঠানামার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এবং সে বিষয়টির সুরাহার পর বাজার তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেপথ্য কারণ খুব বেশি একটা খুজে পাওয়া যায় না। সুচকের একবার পতন হলে কারণ থাকুক আর না থাকুক খুব সহজে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উত্থানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয় না। যেমনটি ঘটছে সাম্প্রতিক পুঁজিবাজারে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৭ জুলাই ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এর অবস্থান ছিলো ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে, আর এ দিন ছিলো ঈদের ছুটির পূর্বে শেষ কার্যদিবস। ঈদের পর থেকে আজ ২০ জুলাই পর্যন্ত টানা পতনে বৃত্তে রয়েছে দেশের প্রধান এই পুঁজিবাজার। গত ১২ জুলাই ডিএসই প্রধান সূচকের অবস্থান ছিলো ৬ হাজার ৩৫৫ পয়েন্ট, আর আজ তা কমে ৬ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

আজ ডিএসইতে ৬৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ৩৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি। গতকাল ডিএসইতে ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে  ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৪৬ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২০৬ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৩৮১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ২১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ সিএসই সার্বিক সূচক সিএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট কমেছে। এদিন সিএসইতে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারের এমন পতনের কারণ বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের চিন্তিত করে তুলেছে। দেশের অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কায় শেয়ার বিক্রি করছেন তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে চলছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের মতে, ভয়ের কারণে পুঁজিবাজারে যে পতন হচ্ছে ততটা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের স্পেকিউলেটিভ মার্কেট, যার কারণে যে কোনো কিছু হলে শেয়ার মার্কেটের ওপরে দিয়ে যায়।

তারা বলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীরা আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন পরে আবার অনেকেই চলে আসবে তখন সব ঠিক হয়ে গেছে। তখন মনে হবে রিজার্ভ-টিজার্ভ সব ঠিক হয়ে গেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার কারণ হিসেবে তারা বলেন, করোনার মধ্যে দেশে কোনো ইমপোর্ট হয়নি। দেশের বাইরে কেউ যায়নি। কলকাতায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে লোক যায়, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক যায়। করোনার মধ্যে কোনো জায়গাতেই যায়নি। ট্যুর-ট্রাভেলস সব বন্ধ ছিল। রেমিট্যান্স ও এক্সপোর্টের মাধ্যমে ডলার যা এসেছে সব রিজার্ভে জমেছে। আর এখন ইমপোর্ট হচ্ছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ। রিজার্ভ তো কমবেই। ১০ বছর আগেও দেশের রিজার্ভ ছিল ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন। এখন সেটা ৩৯-এর ঘরে।

ঢাকা/এসএ