১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

পোশাক রপ্তানিতে ৪৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২
  • / ১০৩৪৯ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাতে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের (ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার) উচ্চাভিলাষী রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। যেখানে শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাসংক্রান্ত সভা শেষে এই ঘোষণা করেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও এই লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

গত অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬০.০৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.৮০ শতাংশ বেশি। এদিকে বছর শেষে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৪৩.৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯.৭৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ আয়; বছরজুড়ে প্রবৃদ্ধির ওই অঙ্কও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য খাতে গত বছরের রপ্তানি আয়ের ১১.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতে গত বছরের রপ্তানি আয়ের ১২.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ’

গত বছর পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ৫২.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

সেবা খাতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এ খাতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পণ্য ও সেবা খাতে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ৬০.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘আগামী ২০২৪-২০২৫ সালে দেশের রপ্তানি ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি’, জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী  বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এ খাতের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫.৪৭ শতাংশ। মোট রপ্তানির বেশির ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনেও এ খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আমাদের কৃষি খাত, চামড়া খাত, পাট খাত, হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি এরই মধ্যে প্রতিটি খাতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ প্রায় আট থেকে ১০টি খাতের রপ্তানি বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে আইসিটি খাতের রপ্তানি ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে। ’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গনমাধ্যমকে বলেন, ‘রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও বাংলাদেশে যেহেতু মৌলিক পোশাক রপ্তানি করে সেই কারণে পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হতে পারে। যদিও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার প্রভাব ফেলছে। ’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভায় বক্তব্য দেন। এ সময় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম আহসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) নুসরাত জাবীন বানুসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

পোশাক রপ্তানিতে ৪৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট: ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাতে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের (ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার) উচ্চাভিলাষী রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। যেখানে শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাসংক্রান্ত সভা শেষে এই ঘোষণা করেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও এই লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

গত অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬০.০৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.৮০ শতাংশ বেশি। এদিকে বছর শেষে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৪৩.৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯.৭৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ আয়; বছরজুড়ে প্রবৃদ্ধির ওই অঙ্কও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য খাতে গত বছরের রপ্তানি আয়ের ১১.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতে গত বছরের রপ্তানি আয়ের ১২.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ’

গত বছর পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ৫২.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

সেবা খাতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এ খাতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পণ্য ও সেবা খাতে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ৬০.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘আগামী ২০২৪-২০২৫ সালে দেশের রপ্তানি ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি’, জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী  বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এ খাতের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫.৪৭ শতাংশ। মোট রপ্তানির বেশির ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনেও এ খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আমাদের কৃষি খাত, চামড়া খাত, পাট খাত, হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি এরই মধ্যে প্রতিটি খাতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ প্রায় আট থেকে ১০টি খাতের রপ্তানি বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে আইসিটি খাতের রপ্তানি ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে। ’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গনমাধ্যমকে বলেন, ‘রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও বাংলাদেশে যেহেতু মৌলিক পোশাক রপ্তানি করে সেই কারণে পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হতে পারে। যদিও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার প্রভাব ফেলছে। ’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভায় বক্তব্য দেন। এ সময় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম আহসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) নুসরাত জাবীন বানুসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/এসএ