০৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন চা শ্রমিকরা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:১৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২
  • / ১০২৯৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা ৪ ঘন্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জনভোগান্তি এড়াতে প্রসাশন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে বেলা ৩ টার দিকে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এর আগে রোববার বেলা ১১টা থেকে লস্করপুর ভ্যালির প্রায় ৫ হাজার নারী পুরুষ চা শ্রমিক বিভিন্ন যানবাহনে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বিভিন্ন প্লেকার্ড ফেষ্টুন নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধ চলাকালে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত যাত্রী বাসসহ যানবাহন আটকা পড়ে। গরমের মধ্যে আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মহাসড়ক থেকে সরে যাবার অনুরোধ করলে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা সরে যাননি। এ সময় মহাসড়কের ওপর তাদের দাবি পূরণের দাবিতে চা শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে চা শ্রমিকের মজুরি ১২০টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫টাকা বৃদ্ধি করার সংবাদ বিভিন্ন বাগানে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, গত ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ১৬৮টি চা বাগানে শ্রমিকরা তাদের দৈনিক মজুরি ৩০০টাকা করার দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি করে আসছেন। এর মধ্যে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সরকার পক্ষের বৈঠক হয়। কিন্তু এ বৈঠকে চা বাগান মালিক পক্ষের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এর পর ঢাকায় শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে শ্রমিক প্রধিনিধি ও বাংলাদেশ চা সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠকেও কোন সুরাহা হয়নি। ২৩আগস্ট ঢাকায় শ্রমমন্ত্রী মুন্নি জান সুফিয়ানের উপস্থিতে সব পক্ষকে নিয়ে ঢাকায় বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পান বলেন, শ্রীমঙ্গলের বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি ১২০টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫টাকা ঘোষণা একটি প্রহসন। আমাদের জিম্মি করে জোর জবরধস্তি চালিয়ে এ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতির ৮ম দিনে হবিগঞ্জের ২৩ টি চা বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

নৃপেন পান আরও বলেন, ২৩ আগস্টের মধ্যে তাদের ৩০০টাকা মজুরি মেনে না নিলে ২৪আগস্ট থেকে আবার মহাসড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

অবরোধ চলাকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লস্কর ভ্যালী সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়, লালন পাহান, খোকন পানতাঁতী, প্রদীপ কৈরি, মোহন রবিদাস, ধনা বাউড়ি খায়রুন নাহার, লক্ষীচরন প্রমুখ। অবরোধ চলাকালে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সহকারী পুলিশ সুপার মহসিন আল মুরাদ, অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, বেনু মাধব রায়, পংকজ কুমার সাহা, শ্রীধাম দাশগুপ্ত,আইয়ূব খান শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ করলে জনভোগান্তি এড়াতে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বেলা ৩ টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়। 

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন চা শ্রমিকরা

আপডেট: ০৬:১৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা ৪ ঘন্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জনভোগান্তি এড়াতে প্রসাশন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে বেলা ৩ টার দিকে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এর আগে রোববার বেলা ১১টা থেকে লস্করপুর ভ্যালির প্রায় ৫ হাজার নারী পুরুষ চা শ্রমিক বিভিন্ন যানবাহনে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বিভিন্ন প্লেকার্ড ফেষ্টুন নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধ চলাকালে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত যাত্রী বাসসহ যানবাহন আটকা পড়ে। গরমের মধ্যে আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মহাসড়ক থেকে সরে যাবার অনুরোধ করলে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা সরে যাননি। এ সময় মহাসড়কের ওপর তাদের দাবি পূরণের দাবিতে চা শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে চা শ্রমিকের মজুরি ১২০টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫টাকা বৃদ্ধি করার সংবাদ বিভিন্ন বাগানে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, গত ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ১৬৮টি চা বাগানে শ্রমিকরা তাদের দৈনিক মজুরি ৩০০টাকা করার দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি করে আসছেন। এর মধ্যে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সরকার পক্ষের বৈঠক হয়। কিন্তু এ বৈঠকে চা বাগান মালিক পক্ষের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এর পর ঢাকায় শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে শ্রমিক প্রধিনিধি ও বাংলাদেশ চা সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠকেও কোন সুরাহা হয়নি। ২৩আগস্ট ঢাকায় শ্রমমন্ত্রী মুন্নি জান সুফিয়ানের উপস্থিতে সব পক্ষকে নিয়ে ঢাকায় বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পান বলেন, শ্রীমঙ্গলের বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি ১২০টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫টাকা ঘোষণা একটি প্রহসন। আমাদের জিম্মি করে জোর জবরধস্তি চালিয়ে এ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতির ৮ম দিনে হবিগঞ্জের ২৩ টি চা বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

নৃপেন পান আরও বলেন, ২৩ আগস্টের মধ্যে তাদের ৩০০টাকা মজুরি মেনে না নিলে ২৪আগস্ট থেকে আবার মহাসড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

অবরোধ চলাকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লস্কর ভ্যালী সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়, লালন পাহান, খোকন পানতাঁতী, প্রদীপ কৈরি, মোহন রবিদাস, ধনা বাউড়ি খায়রুন নাহার, লক্ষীচরন প্রমুখ। অবরোধ চলাকালে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সহকারী পুলিশ সুপার মহসিন আল মুরাদ, অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, বেনু মাধব রায়, পংকজ কুমার সাহা, শ্রীধাম দাশগুপ্ত,আইয়ূব খান শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ করলে জনভোগান্তি এড়াতে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বেলা ৩ টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়। 

ঢাকা/টিএ